গল্প নয় সত্যি

নিজেই যখন নিজের খোঁজে

পর্যটকদের একটি বড় দলের অংশ হয়ে তিনিও চেপে বসেছিলেন আইসল্যান্ডের এলডকিয়াও ক্যানিয়নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ট্যুরিস্ট বাসে। এরই মাঝে পথে একটি পার্কের কাছাকাছি বাসটি কিছু সময়ের জন্য থামে। পর্যটকরাও যে যার মতো নেমে পড়েন চটজলদি নাস্তা কিংবা জরুরি কাজগুলো সারতে। অন্য সবার মতো নামেন তিনিও। আর এখানেই কী মনে করে যেন নিজের পোশাকটা পাল্টে আরামদায়ক অন্য একটি পোশাক পরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। এই তিনি মানে পর্যটকদলের অংশ হয়ে থাকা মাঝবয়সী এক নারী। কিন্তু পোশাক পাল্টে তিনি যতক্ষণে অন্য সব পর্যটকদের সাথে পুনরায় বাসে চেপে বসেছেন, ততক্ষণে বেশ একটা চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বাসে। একান-ওকান হয়ে একসময় তিনিও জানতে পারেন যে, বিশাল বড় এই পর্যটক দলটি থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এক নারীকে। বেশ কিছুক্ষণ তার অপেক্ষায় থেকে গঠন করা হয় পঞ্চাশ সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধানী দলও। আর এতে যোগ দিয়ে অন্য সবার মতো গল্পের কেন্দ্রে থাকা নারীটিও যোগ দেন অনুসন্ধানে। অথচ অন্য সবার মুখে যার বর্ণনা তিনি শুনছিলেন সেটা যে আসলে তিনি নিজেই এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি ওই নারী। আসলে তার পোশাক পরিবর্তনের কারণেই বাসের অন্য সহযাত্রীরা তাকে চিনতে পারেননি এবং তিনি হারিয়ে গেছেন বলে ধরে নিয়েই খোঁজ শুরু করেন তারা। এভাবে একসময় তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় কোস্টগার্ডের সদস্যরাও। অবশেষে বেশ কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর দুপুর তিনটার দিকে সবাই আবিষ্কার করেন যে যেই নারীর খোঁজে তারা এতক্ষণ ধরে গলদঘর্ম হচ্ছেন সেই নারী নিজেই তাদের সাথে থেকে নিজেকে খুঁজছেন!