ছয় ঋতুতেই

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাংলার ষড়ঋতুকে নিয়ে আদৌ ভাবেন কি! যদি ভাবতেন তাহলে তো প্রতিটি ঋতুতে ট্যুরিস্টদের নিয়ে ভ্রমণের আয়োজন করতেন। যেহেতু তারা দেশের পর্যটন শিল্পকে নিয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই স্মরণ করিতে দিতে চাই-অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ আমার এই জন্মভূমি। আমার বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলার রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেনঃ নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম/ চির মনোরম চির মধুর/ বুকে নিরবধি বহে শত নদী / চরণে চলধি বাজে নূপুর। অপরূপ এই বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, প্রতিটি গ্রাম যেন দর্শনীয়। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, হাতিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সাতক্ষীরায় গেলে বঙ্গোপসাগরের দেখা মেলে। সুন্দরবন তো গভীর রহস্যে ভরা। পাহাড়িয়া অঞ্চল বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মানিকছড়ি, লামা, রাঙামাটি, বরকল যেন সৌন্দর্যের আধার। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি এলাকায় টেকিং, হাইডিং ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আনন্দ-বিনোদনের বড়োই অভাব বাংলাদেশে— তাই বিদেশি ট্যুরিস্টরা আসতে চান না। এজন্য কক্সবাজার, টেকনাফ, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতে পর্যাপ্ত আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেশি বিদেশি ট্যুরিস্টদের আকৃষ্ট করার তাগিদ দিচ্ছি। আমাদের বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে যেমন—মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর, সোনারগাঁও, নাটোর, পুঠিয়া, দিনাজপুর, রাজশাহী। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির বার বার দেখেও দেখার ইচ্ছা যে পূরণ হওয়ার নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “দেশে দেশে কত না নগর, রাজধানী-মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু, মরু, কত না অজানা জীব, কত না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে।” অন্য দেশ নয়, নিজ দেশ দেখে জানা যায় কত না অজানা কাহিনী। দু’নয়ন মেলে দেখা যায় বাংলার কত না রূপ আর শোভা। বাংলার অরণ্য, পাহাড়, সমুদ্র, নদী, সবুজ-শ্যামল প্রান্তর, বালুচর, স্থাপত্য কীর্তি- এর সবই যেন ভিন্ন ভিন্ন রূপ। কিন্তু বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ভাবনা নেই, নেই উদ্যোগ! যেজন্য বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে ঘুরে-ফিরে কয়েকটি স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গেলো। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের কাছে অনুরোধ জানাই, ষড়ঋতুর বাংলাকে নিয়ে ভাবুন- প্রতিটি ঋতুতে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্টদের ভ্রমণে আগ্রহী করে তুলুন। চিনবার-জানবার সুযোগ করে দিন রূপসী বাংলাকে। লিয়াকত হোসেন খোকন, বাসা-৭, সড়ক-২৭, রূপনগর আবাসিক এলাকা, মিরপুর, ঢাকা