চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ওসি হেলাল
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৪, ২১:১৭
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালের বিরুদ্ধে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. আবদুল কাদের সাক্ষ্য দিলেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বর্তমানে একটি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। বুধবার ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল।
সাক্ষ্য দিতে আদালতে এসে তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০১১ সালের ১৬ জুলাই রাতে আনুমানিক দেড়টার সময় খালার বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ফেরার পথে কোন বাহন না পেয়ে হেঁটে রওয়ানা হই। শাহবাগ থানাধীন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আসলে সাদা পোশাকধারী পুলিশ দৌড়ে এসে আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিলে আরো ক্ষেপে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল পৌনে দশটার দিকে ওই থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন থানার লকআপ থেকে তার কামরায় নিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি মামলায় স্বীকারোক্তি আদায় করতে সারা শরীরে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। দুই হাতে পিটানোর ফলে হাতের নখ ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। আমি তার কথা না শুনলে টেবিলের উপর থেকে চাপাতি হাতে নিয়ে ‘দেখিতো চাপাতিতে ধার আছে কিনা’ এ কথা বলে সে আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের পিছন দিকের মাংস পেশীতে কোপ দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। ওই কাটা জখম থেকে বয়ে যাওয়া রক্তে তখন পুরো কক্ষ ভিজে যায়। পরে মূল অপরাধীদের সাথে আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করে খিলগাঁও থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করে। পরে আদালত থেকে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে আমি আমার নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই। উচ্চ আদালত কর্তৃক নির্দেশিত মতে ঘটনাটি উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আদিষ্ট হয়ে ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি খিলগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করি। আবদুুল কাদেরের জবানবন্দি শেষ হলে তাকে জেরা শুরু করেন আসামির আইনজীবীরা।
এ সময় জামিনে থাকা আসামি খিলগাঁও থানার তত্কালীন ওসি হেলাল উদ্দিন আসামির কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। আসামির পক্ষে বাদীকে জেরা শুরু করেন তার আইনজীবীরা। আংশিক জেরার পর অবশিষ্ট জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. আলমগীর কবির রাজ এ আবেদন মঞ্জুর করেন। বাদীকে অবশিষ্ট জেরার জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ২৬ মার্চ খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক আবু সাইদ আকন্দ ওসি হেলালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ৪ এপ্রিল অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুুজীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবদুল কাদেরের ওপর থানা হেফাজতে নির্যাতনের কথা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে তিনি ওই বছরেরই ৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি এবং পরে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পান।