দেশের উন্নয়নই নিজের উন্নয়ন

স্বপ্ন দেখেন বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম দেশ নিয়ে আরও বেশি স্বপ্ন দেখবে, আর তাদের হাত ধরেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নাম বিশ্বমণ্ডলে পরিচিত হবে নতুনভাবে। বলছিলেন এই প্রজন্মের একজন সফল ব্যাক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অফিসের পিপিপি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবু রাশেদ। আবু রাশেদের শৈশবের পুরোটুকুই কেটেছে ঢাকার কল্যাণপুরে। ধার্মিক এবং যুগোপযোগী মননে বড় হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তার বাবা-মায়ের। আবু রাশেদ জানান, ছোটবেলা থেকেই তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম শিখিয়েছেন একজন মানুষকে কতটুকু দায়িত্বজ্ঞানবোধ সম্পন্ন হতে হয়, আর মা মারুফা ইসলামের কাছ থেকে পেয়েছেন জীবনে বড় কিছু করার প্রেরণা। মূলত শৈশবের ওই শিক্ষাই তাকে দেশ সম্পর্কে ভাবতে শিখিয়েছে, চিন্তা করতে শিখিয়েছে সবার আগে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে; অর্থ ও সম্মান ধারাবাহিকতা মাত্র। মাধ্যমিক পড়াশোনার পাট শেষ করেছেন গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, উচ্চমাধ্যমিক নটরডেম কলেজ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটোই শেষ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে। তার সহধর্মিণী ফারহানা জামানও একই অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে জাতিসংঘের ইউএনডিপিতে কর্মরত আছেন। প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং ফিনান্সিয়্যাল মডেলিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিঙ্গাপুর, দিল্লী, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ অর্জন করেই থেমে থাকেননি বরং অতিথি শিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে লেকচার দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ইউনিভার্সিটি ছাড়াও ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ ২০টিরও বেশি দেশে। আবু রাশেদ তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পিএইছজি সিঙ্গাপুরে। এ ছাড়াও কাজ করেছেন নেসলে, আইআইএফসিসহ স্বনামধন্য সব দাতাসংস্থার হয়ে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএফসি, ডিএফআইডি, এডিবি (ম্যানিলা) প্রভৃতির অসংখ্য কর্মকাণ্ডে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। বিশ্বব্যাংকের আইপিএফএফ এবং আইএফসি-এর SAIF-এ আইআইএফসির প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং সিনিয়র অ্যাডভাইজর হিসেবে তার সাফল্য উল্ল্যেখযোগ্য। আবু রশেদ বাংলাদেশের বেশকিছু ন্যাশনাল পলিসি মেকিংয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অফিসের পিপিপি বিশেষজ্ঞ হিসেবে। খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল সার্ভিস কলেজ এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবু রাশেদর দশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা রয়েছে। রাশেদ স্বপ্ন দেখেন এমন এক পৃথিবীর যেখানে প্রকৃত জ্ঞানচর্চার অবাধ সুযোগ থাকবে। মূলত আক্ষেপ থেকেই তার স্বপ্নের যাত্রা শুরু। তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের অর্জিত জ্ঞানের সাথে তাদের কর্মক্ষেত্রের বা চাহিদার কোনো মিল নেই। দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাবার মত যথেষ্ট মেধা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তরুণ প্রজন্মের কাছে নগদ প্রাপ্তিমূলক ক্যারিয়ার প্রাধান্য পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এখন উন্নয়নের পথে রয়েছে। এখনই আমাদের অসাধারণ সুযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে এই ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার।’ আবু রাশেদ বলেন, ‘যার শিক্ষা এবং যোগ্যতা আছে কান্ট্রি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে নতুন কোনো ধারণা উদ্ভাবনের, সে তার পড়াশোনার সময় থেকেই স্বপ্ন দেখে কোনো বহুজাতিক কোম্পানির সাবান, রঙ, কিংবা চকোলেট বিক্রি সংক্রান্ত কাজ করার। অথচ যেকোনো উন্নত দেশের সব থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত চাকরি থাকে পরামর্শক কিংবা ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করা।’ তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাক্তিগত অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে আমি দেখেছি টিমওয়ার্ক একটি অসম্ভব কাজকেও সম্ভব করে তোলে। সংঘবদ্ধভাবে মানুষ এমন সব জিনিস অর্জন করতে পারে যা ব্যাক্তিগতভাবে অর্জন করা কখনই সম্ভব নয়।’ নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে আবু রাশেদ বলেন, ‘প্রকৃত ইসলামি চেতনার বিকাশ ও দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি অংশীদার হতে চাই।’ বিশ্বের নামকরা সব প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রস্তাব পেয়েও কেন দেশেই কাজ করছেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিজের দেশে থাকার অসম্ভব কিছু ভালো অনুভূতি আছে যা আপনি শুধু দেশের বাইরে দীর্ঘদিন থাকলেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই আমার স্পষ্ট ধারণা ছিল যে প্রত্যক্ষ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করলে ব্যাক্তিগত এবং সর্বাঙ্গীণভাবে উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে।’ আবু রাশেদ স্বপ্ন দেখেন বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম দেশ নিয়ে আরও বেশি স্বপ্ন দেখবে, আর তাদের হাত ধরেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নাম বিশ্বমণ্ডলে পরিচিত হবে নতুনভাবে।