নৌ-দুর্ঘটনা বাড়লেও নেই শক্তিশালী উদ্ধার যান
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৩
দেশের নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটলেও তা উদ্ধারে নেই কোন শক্তিশালী নৌযান। যাত্রীবাহী লঞ্চ - ট্রলার, পণ্যবাহী কার্গো ও ফেরি দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। কিন্তু নিমজ্জিত নৌ-যান উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র নেই তেমন কার্যকর উদ্ধারকারী যান। সরকারি ওই সংস্থার উদ্ধারকারী জলযান ‘হামজা’ ও ‘রুস্তম’ অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে। তবে নতুন দুটি যান আনা হলেও সেগুলোকে উদ্ধার কার্যক্রমে তেমন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া ডুবুরী সংকট তো রয়েছেই ।
জানা গেছে, হামজা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। রুস্তুম সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে। ঐ দু’টি জাহাজের ক্রেনের উত্তোলন ক্ষমতা ৬০ টন করে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত বছর কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয় আরো দু’টি উদ্ধারকারী নৌ-যান। ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ করে কোরিয়ার ডক ইয়ার্ডে নির্মাণ করা ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামের এ নৌ-যান দু’টির উত্তোলন ক্ষমতা আড়াই’শ টন করে। নতুন দু’টি উদ্ধারকারী জলযানের মোট ক্ষমতা ৫শ’ টন হলেও রুস্তম-হামজার মত তাদের দিয়ে একযোগে উদ্ধার অভিযান চালানো যায় না। একটি উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করে অপরটি বসিয়ে রাখা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এছাড়া গভীর পানি ছাড়া চলতে পারে না ভারী এই নতুন জাহাজ দু’টি।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, রুস্তম ও হামজা ৭/৮ ফুট পানিতেও চলাচল করতে পারে। নির্ভিক ও প্রত্যয় চলাচলের জন্য এর দ্বিগুণ গভীরতা প্রয়োজন হয়। যদিও সংস্থার পরিচালক (নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন) মোহম্মদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান, নির্ভিক ও প্রত্যয় ১০/১২ ফুট পানিতে চলতে পারে। দু’টি জাহাজ একত্রে অভিযানে না যাওয়ার ব্যাপারে তিনি জানান, জাহাজ দু’টি খুবই স্পর্শকাতর। সর্তকতার সাথে পরিচালনা করতে না পারলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। নিমজ্জিত জাহাজের ভার নির্ণয় করে দু’ ভাগে সমান ভাবে বিভক্ত করা যায় না বলেই প্রত্যয় ও নির্ভিক একত্রে অভিযানে যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
এদিকে সর্বশেষ গত ৯ মার্চ রাতে কীর্তনখোলা নদীতে নিমজ্জিত পণ্যবাহী কার্গো কর্ণফুলী-৫ উদ্ধারের ব্যাপারে সংস্থার ঐ পরিচালক জানান, ৯৫০ টন কাঁচামাল নিয়ে নিমজ্জিত কার্গোর ওজন এখন ১৫শ’ টনের উপরে। ফলে হামজা-রুস্তুমের সাথে প্রত্যয়-নির্ভিক একত্রে গেলেও কর্ণফুলীকে তুলতে পারবে না।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালস্থ উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) আবুল বাশার মজুমদার ইত্তেফাককে জানান, নিমজ্জিত কার্গোর মালিককে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্ণফুলীকে উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নিমজ্জিত কার্গোতে সিমেন্ট তৈরির জন্য বালু জাতীয় কাঁচামাল ছিল। মালিক বিশেষ পদ্ধতিতে তা অপসারণ করে কার্গোটি উদ্ধার করতে পারবেন। তবে উদ্ধার অভিযানে অন্যকোন সহযোগিতা লাগলে তা দেয়া হবে।
ডুবুরী সংকট :বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, হামজা ও রুস্তুমে নিয়মিত দুই ডুবুরীর পাশাপাশি দৈনিক ভিত্তিতে আরো একজন করে ডুবুরী রয়েছেন। মোট তিনজন ডুবুরী নিয়ে পরিচালিত হয় উদ্ধার অভিযান। ডুবুরী স্বল্পতার কারণে নৌ-দুর্ঘটনার পর প্রায়ই নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস থেকে ডুবুরী দল এনে কাজ করাতে হয় বিআইডব্লিউটিএ-কে। তাই প্রয়োজনীয় ডুবুরী রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকারী জলযানে একাধিক অপারেটর থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা ।