তিন যুগ পর কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি নেই
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৬
মেহেরপুরের সাথে রেল যোগাযোগের প্রস্তাবিত দর্শনা —মেহেরপুর-পোড়াদহ রেলপথ প্রকল্প দীর্ঘ ৩৫ বছর ফাইলবন্দী থাকার পর ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের মন্থর গতি দেখে অনেকে আবার হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
মেহেরপুর জেলা সদর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কিন্তু এ জেলা শহরের সাথে রেল যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। নৌ-পথ ছিল, তাও বন্ধ হয়ে গেছে। মেহেরপুরের সাথে রেলযোগাযোগের প্রথম প্রস্তাবনা আসে বৃটিশ আমলে। এ সময় পোড়াদহ-মেহেরপুর-করিমপুর রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এটি একটু পরিবর্তন করে চুয়াড়াঙ্গা-মেহেরপুর -দৌলতপুর রায়টা- ভেড়ামারা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এটি আর কার্যকর হয়নি । দেশ স্বাধীনের পর আবার প্রস্তাবিত রেলপথ নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে প্রস্তাবিত রেলপথের আবার সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত প্রস্তাবে দর্শনা- মেহেরপুর-পোড়াদহ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের কথা বলা হয়। সে মতে ১৯৭৭ সালের ২৪ জানুয়ারি তত্কালীন মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসন প্রকল্পে সুপারিশ করেন। চেষ্টা তদবিরের পর তত্কালীন রেলমন্ত্রীর নির্দেশে ৬ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে প্রস্তাবিত রেলপথ স্থাপনে প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়।
১০ এপ্রিল ১৯৮২ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৮ এপ্রিল ১৯৮৩ সালে মেহেরপুর পৌরসভায় এক বৈঠকে প্রকল্পটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর ১৪ মে ১৯৯৫ সালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক প্রস্তাবিত প্রকল্পটি খুলনা বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উদ্যোগ নেন। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এদিকে গত ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেহেরপুরের মুজিবনগরে রেল লাইন করার ঘোষণা দেয়ার পর রেল লাইন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল রেলওয়ের ডিজি’র নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল মেহেরপুর ও মুজিবনগর পরিদর্শন করেন। রেলওয়ের ডিজি টি এ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মেহেরপুরসহ মুজিবনগর এবং পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও দর্শনা এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, সম্প্রতি একনেকের বৈঠকে দর্শনা হয়ে মুজিবনগর পর্যন্ত ৪০ কিঃ মিঃ এবং মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত ১৬ কিঃ মিঃ রেল লাইন স্থাপন করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ৭শ’ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্রুত রেল লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর রেল লাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে মেহেরপুর রেল লাইন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে রেলওয়ের ডিজিকে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। এরপরও কাজের দ্রুত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।