‘লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে ব্রিটিশ মন্ত্রী হবেন রুশনারা আলী’
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৬
ব্রিটেনের আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে মন্ত্রী হবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রুশনারা আলীর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শ্যাডো বিজনেস সেক্রেটারি চুকা উমুন্নাহ এমপি। চুকা উমুন্নাহ বলেন, রুশনারা আলী বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি, মুসলিম নারী হিসেবে তিনি প্রথম এবং ছায়া মন্ত্রী (শ্যাডো মিনিস্টার) হিসেবেও রুশনারাই প্রথম। তিনি আরো বলেন, লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড রুশনারাকে তার দলে নিয়েছেন প্রথম বাংলাদেশি হওয়ার কারণে নয়; বরং তার অসাধারণ মেধার কারণে।
লন্ডনের প্রাণকেন্দ হলবর্নের গ্র্যান্ট কনট রুমস হোটেলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ ডিনারে ব্রিটিশ হোম এ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ার কীথ ভাজ এমপি, সাবেক মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ডবসন, জিম ফিটজপেট্রিক এমপি, কেভিন ব্রেনান এমপিসহ প্রায় ডজন খানেক লেবার দলীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে রুশনারা আলী তার বর্তমান আসন লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এন্ড বো থেকেই পুনরায় নির্বাচন করবেন।
বর্তমান এমপি রুশানারা আলী ছাড়াও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরো তিনজন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার দল থেকে এমপি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এরা হলেন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি এবং ক্যামডেনের কাউন্সিলার টিউলিপ সিদ্দিক, কিংসটন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক ড. রূপা হক এবং ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া। টিউলিপ এবং রুপা হক বেশ আগেই তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করলেও আনোয়ার বাবুল মিয়ার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয় গত ৯ মার্চ। এদিন তিনি স্থানীয় লেবার পার্টির বার্ষিক সভায় সদস্যদের সরাসরি ভোটে দলের মনোনয়ন লাভ করেন। এই প্রার্থীদের সকলেই রুশনারার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রুশনারা আলী নিজেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে গর্বিত উল্লেখ করে বলেন, তিনি ব্রিটিশ সমাজে বাঙালি কমিউনিটিকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান। সকল ধর্ম, বর্ণ এবং নানা জাতিতে পূর্ণ তার নির্বাচনী এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি ব্রিটিশ সমাজের উন্নয়নে আরো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চান। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
রুশনারা আলীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তার নির্বাচনী প্রচারে নিয়োজিত কর্মী, সমর্থক, বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দসহ ৬ শতাধিক অতিথি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।