পবা রেজিস্ট্রি অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২১:২৫
রাজশাহীর পবা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে ঘুষের দর বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ নিয়ে একজন দলিল লেখকের হাতে সাব-রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিতের ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ-বাণিজ্য। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাথা ব্যথা নেই। তবে শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজ্জাকুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় কর্মচারী ও দলিল লেখক সমিতির সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট ঘুষ-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক। জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমি রেজিস্ট্রি খাতে সরকারি দর ৮ শতাংশের স্থলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ আদায় করা হয়। এর মধ্যে দলিল লেখক সমিতির বেঁধে দেয়া আন্ডার ভ্যালু হিসেবে এক শতাংশ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া দলিল প্রতি জমির ক্রেতাকে গড়ে অতিরিক্ত আরও ৪ হাজার টাকা গুনতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল লেখক সমিতির হাত ঘুরে দলিল প্রতি সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ ৫০০ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে তা ১০ হাজার পর্যন্ত ওঠে। ঘুষের বাকি টাকা জমা হয় দলিল লেখক সমিতির খাতায়। এছাড়া টিপসহি বাবদ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়নকে দলিলভেদে দিতে হয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
সূত্রগুলো বলছে, ঘুষের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দলিল লেখকদের দ্বন্দ্ব চলছে। এরই জের ধরে ৫ মার্চ সাব-রেজিস্ট্রারকে দলিল লেখক তারিক হাসান প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ্জাকুল ইসলাম বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন।
এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আয়নাল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলিল সম্পাদনের সময় রেজিস্ট্রেশন, গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ফি ও পৌরকরসহ যাবতীয় সরকারি অর্থ পে-অর্ডারের মধ্যেমে পরিশোধ করা হয়।
এ ব্যাপারে মতামতের জন্য মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাব-রেজিস্ট্রার (খণ্ডকালীন) মতিউর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি জানার পর দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল।