নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চাই পৃথক অর্থনৈতিক জোন

দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তা আরো বাড়াতে সরকারের প্রতি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক জোন করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময়ের দাবি মিটিয়ে এগিয়ে যেতে আহবান জানান তিনি। গতকাল রূপসী বাংলা হোটেলে দিনব্যাপী ‘নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও পণ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে এই আহবান জানান তিনি। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কেয়ার বাংলাদেশ, জাইকা বাংলাদেশ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ৮০টি স্টল পণ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি মিকিও হাতাইদা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্রের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারী। আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসির সভাপতি ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, ডিসিসিআই-এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক অধ্যাপক হান্নানা বেগম, এমসিসিআই’র সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর জেমি তেরজি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাসেম, এসএমই কনসালটেন্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা। ড. আতিউর রহমান আরো বলেন, ‘নারীরা শুধু গৃহবধূ হয়ে থাকলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রম শক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীর আত্মশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে।’ তিনি নারী পুরুষ মিলেই সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান। আর এজন্য নারী উদ্যোক্তাদের যত ধরনের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক তার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দেন। কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ দেশের প্রতিটি জেলায় নারী চেম্বার করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক নারী। আর তাদের কাজে লাগাতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। মিকিও হাতাইদা বলেন, ‘বাংলাদশেরে নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতায় আমরা আছি এবং আগামীতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, যখন আমি ব্যবসা শুরু করি তখন নারীরা ব্যবসা করতে পারে বলে সমাজ বিশ্বাস করতে পারেনি। আজ সেই নারীরা শিল্প-কারখানা করছে। এটা নারীদের অর্জন। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে নারী উদ্যোক্তাদের সাথে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই আলোচনা সভা হতে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।