শিশুদের পাশে বাংলাদেশ দল

মানুষের পাশে, অসহায়ের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সবসময়ই করেন। কখনো বোর্ডের উদ্যোগে, কখনো নিজেদের উদ্যোগে এটা করেন তারা। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা এ ক্ষেত্রে তাদের মনোভাবটাও লুকানোর চেষ্টা করেন না। তারা সবসময়ই বলেন, সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত অংশ থেকে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে, ভাগ্যবিড়ম্বিতদের পাশে থাকাটা দায়িত্ব মনে করেন তারা। ঠিক যেমন গতকাল মিরপুরের বায়তুস সুযুগ জামে মসজিদ এতিমখানা ঘুরে এসে দলের একজন হিসেবে সোহাগ গাজী বলছিলেন, ‘এতো ফুটফুটে বাচ্চাগুলো; দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়! ওদের সঙ্গে একটু কথা বলতে পারাটাও আমার কাছে মনে হয়, আমাদের দায়িত্ব। বিশ্বকাপের মতো এতো বড় একটা আসরের আগে এই শিশুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা নিজেদেরই ভাগ্যবান মনে করছি।’ এই দায়িত্ববোধ থেকেই বিশ্বকাপের আগে গতকাল জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সবাই মিলে গিয়েছিলেন মিরপুরের এই এতিমখানায়। পিতৃমাতৃহীন এই শিশুদের সঙ্গে খানিকটা সময় ক্রিকেট খেলে কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এই শিশুদের হাতে তুলে দিয়েছেন কিছু খাবার। আর সবশেষে তাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন দোয়া মাহফিলে। পুরো ব্যাপারটায় অংশ নিতে পেরে জাতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের মতোই খুশী সোহাগও। এই খুশীর কারণটা বলছিলেন তিনি, ‘আমরা খুব ভালো করে জানি, ওরা কেমন ভালোবাসে আমাদের। আজ (গতকাল) ওদের কাছে গিয়ে সেটা আরও ভালো বুঝতে পেরেছি। ওরা যে কী খুশি হয়েছে! ওদের চোখে-মুখে এই আনন্দটা দেখতে পাওয়াটাই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। একেবারে প্রাণ থেকে আমাদের জন্য দোয়া করেছে। আশা করি, ওদের এই ভালোবাসার প্রতিদান আমরা দিতে পারবো।’ নিশ্চয়ই এই শিশুরা এবং আমরা সবাই আপনাদের জন্য দোয়া করি, সোহাগ; কোনো প্রতিদানের আশা না করেই। এখন আপনারা আমাদের যা ভালো ফল এনে দিতে পারবেন, সেটাকেই আমরা প্রাপ্তি মনে করবো।