হাওরবাসীর জান এক ফসলী ধান

অজস্র সমস্যা আর অপার সম্ভাবনার জনপদ হাওর। ভাটির দেশ বাংলাদেশের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে হাওরাঞ্চল। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত জেলার ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার নিয়ে হাওর এলাকা। দেশের মোট উত্পাদিত ধানের এক পঞ্চমাংশ এবং মিঠা পানির মাছের আশি শতাংশ আসে হাওর থেকে। এক একটি হাওর যেন ধানের ও মাছের এক একটি ভাণ্ডার। এক একটি হাওর যেন ঐশ্বর্যদেবীর ধানের ভাড়ার। এ হাওরাঞ্চলে বাস করে দুই কোটি মানুষ। এসব মানুষের জান হলো এক ফসলী ধান। কিন্তু এ জান নিয়ে হাওরবাসীকে সর্বদা তটস্থ থাকতে হয়। কখনো খরা, কখনো অকাল বান কেড়ে নেয় হাওরবাসীর মুখের গ্রাস। প্রকৃতির দয়ার ওপর হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা ঘুরপাক খায়। হাওরে ধান রোপণ শেষ—এখন চলছে পানি দেওয়া ও নিড়ানির কাজ। এর মধ্যে ধানগাছ ফিরে এসেছে। অর্থাত্ হাওরের বুক ছেয়ে গেছে সবুজের আবেশে। হাওর জুড়ে যেন এখন শুধুই সবুজের মেলা। সবুজের গালিচায় মুড়ে আছে গোটা হাওরাঞ্চল। প্রাকৃতিক নৈসর্গের এক অনিন্দ্য সুন্দর হাওর জনপদ। বিলের জলে প্রতিচ্ছবি ফেলে হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বিলের কান্দাগুলো কতই না দৃষ্টিনন্দন। এমন সৌন্দর্য উপভোগ শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। কয়েক দিন পরেই সবুজ প্রান্তর ছুঁয়ে যাবে ধানের সোনালি রঙে। সোনালিধানের আশায় বুক বাঁধে হাওরবাসী। কিন্তু বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তছনছ করে দেয় হাওরবাসীর ভাগ্য। আগাম ঢলে ভেঙে যায় হাওরবাসীর আশার বাঁধ। আগাম ঢল ঠেকাতে প্রায় প্রতিটি হাওর ঘেঁষে রয়েছে হাওর প্রতিরক্ষা বাঁধ অথবা বেড়িবাঁধ। হাওরবাসীর জান এক ফসলী ধান যেন অকালে নষ্ট না হয়। তাই আগেভাগে সংস্কার করতে হবে প্রতিটি হাওর রক্ষাবাঁধ। সারা বছর জুড়ে যে হাওরবাসী তাকিয়ে থাকে এই একটি ফসলের জন্য তা রক্ষা করতে হাওরজীবন রক্ষাকারী বাঁধগুলো এখনই মজবুত করতে হবে। অকাল বানের জলে যাতে কেড়ে নিতে না পারে হাওরবাসীর মুখের গ্রাস—এ বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপে হাওরবাসীর জান এক ফসলী ধান রক্ষা করতে হবে। নেত্রকোনা