সাতক্ষীরায় বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ

স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপকহারে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখীর। আর এ কারণেই কৃষকরা অধিকহারে সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। সোলেনাসী জাতীয় শস্যের মধ্যে এটি একটি অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় এর আবাদ প্রতিবছরই এ জেলায় বাড়ছে। আর স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় ভোক্তারাও কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন সূর্যমুখী তেল। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত মৌসুমে মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছিল। এবার টার্গেট ছিল ১০ হেক্টর। অথচ টার্গেটের তিন গুণেরও বেশি ৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার নিজদেবপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম বলেন, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে জমিতে সূর্যমুখীর বীজ বপন করতে হয়। গাছ এক ফুটের মত বড় হলে জমিতে সারিবদ্ধ গাছের গোড়ায় মাটি বেঁধে দিতে হয়। এছাড়া সূর্যমুখী চাষে সেচ দিতে হয়। পাশাপাশি ইউরিয়া সারও প্রয়োগ করতে হয়। তিনি আরো জানান, সূর্যমুখী ফুল দেখতে খুবই সুন্দর হয়। ্এপ্রিলে ফল পেকে গেলে সরিষার মত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তেল প্রস্তুত হয়। তিনি আরো জানান, একর প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মণ সূর্যমুখী উত্পাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে একর প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। লাভজনক হওয়ায় তিনি প্রতিবছর এর চাষ বাড়াচ্ছেন বলে জানান। এছাড়া কোলস্টেরল না থাকায় ভোজ্যতেল হিসেবে এর ব্যবহারও বাড়ছে। বিশেষ করে হূদরোগীদের জন্য সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যসম্মত। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম বেশি হলেও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন ক্রেতারা।