ভারত জুড়ে এনডিটিভির বৃহত্ জনমত জরিপ

বিজেপি জোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে

আসন্ন লোকসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতে সবচেয়ে বৃহত্ জনমত জরিপ করেছে বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি। এই জনমত জরিপের ফল বলছে, ৩১৯টি আসনের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলিয়েন্স (এনডিএ) জোট পেতে পারে ১৬৬টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলিয়েন্স (ইউপিএ) জোট পেতে পারে ৫২টি আসন। আর বাকিরা সবাই মিলে পেতে পারে ১০১টি আসন। জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কর্ণাটক, রাজস্থান ও বিহারে বড় জয় পেতে যাচ্ছে বিজেপি। জরিপে দেশের মোট ৫৪৩ আসনের ৩৫০টির দুই লাখ ভোটারের মতামত নেয়া হয়েছে। তবে ১২ রাজ্যের বা ৩১৯টি আসনে এনডিটিভির প্রথম ধাপের জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের চেয়ে তিনগুণ ব্যবধানে এগিয়ে। জরিপ অনুযায়ী মোদীর নেতৃত্বে বিহারে কঠিন প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছে বিজেপি। আর পরাজয় হতে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের জনতা দলের (ইউনাইটেড)। বিজেপির নেতৃত্বে গড়া জোট এবারের নির্বাচনে রাজ্যের মোট ৪০ আসনের ২৩টিতেই জয় পেতে পারে। নিতীশ কুমারের জেডি (ইউ) মাত্র ৫টি আসন পেতে পারে। গতবার তারা পেয়েছিলো ২০টি আসন। আর লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি’র সঙ্গে মিলে কংগ্রেস ১১টি আসন পেতে পারে; যা গতবারের চেয়ে ৫টি আসন বেশি। জনসমর্থনে দেখা যায়, বিজেপি জোটের পক্ষে আছে ৩২, কংগ্রেস জোটের ২৬, জেডি’র ২২ ও অন্যান্য দলের রয়েছে ২০ শতাংশ ভোটার। রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশেও ভালো করবে বিজেপি। এই দুই রাজ্যে সর্বশেষ বিধান সভায় একচেটিয়াভাবে জিতেছে দলটি। ছত্তিশগড়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে এগিয়ে রয়েছে তারা। দিল্লিতে গত ডিসেম্বরের বিধান সভার নির্বাচনে আম আদমি পার্টি (এএপি) দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। যার নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৪৯ দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। লোকসভার নির্বাচনে দিল্লির সাতটি আসনের মধ্যে ৪টিতে জয় পেতে পারে এই এএপি। বিজেপি বিধান সভায় সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে দুটি আসন পেতে পারে। আর ডিসেম্বরের মতোই বিপর্যয় হতে পারে কংগ্রেসের। জরিপের ফল বলছে, দিল্লিতে এএপি’র চমক লাগলেও পার্শ্ববর্তী রাজ্যে তার ছোঁয়া লাগেনি। হরিয়ানার ১০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তার শরিক হরিয়ানা বিকাশ পার্টি ৭টি ও কংগ্রেস ৩টি আসন পেতে পারে। জরিপের ফলে দেখা যাচ্ছে, জয়ললিতা ও মমতা ব্যানার্জির মতো ক্ষমতাধর আঞ্চলিক নেতারা তাদের রাজ্যে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের ৪০টি আসনের ৮০ শতাংশে জয় পেতে পারে মমতা। এছাড়া তার রাজ্যের বেশিরভাগ ভোটারই অন্য কারো চেয়ে তাকেই প্রধানমন্ত্রী দেখতে আগ্রহী। জয়ললিতার এআইএডিএমকে তামিলনাড়ুর ৩৯ আসনের মধ্যে ২৭টি জয় পেতে পারে। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করা ডিএমকের এবার ভরাডুবি হতে যাচ্ছে। তবে ডিএমডিকের সঙ্গে জোট করলেও বিজেপির আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকে বিজেপির চিত্র ভিন্ন। দুই বছর আগে বিধান সভার নির্বাচনে ছিটকে গেলেও এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা বিশাল। বিএস ইয়েদুরাপ্পা ও বি শ্রীরামুলুকে কাছে টেনে নির্বাচনে সফল হতে পারে বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়াহ জনপ্রিয় হলেও তার দলের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিব সেনার জোট সহজ জয় পেতে যাচ্ছে। কংগ্রেস-এনসিপি গত ১০ বছর ধরে মহারাষ্ট্রে শাসন করলেও এবার তাদের ভালো করার সম্ভাবনা কম। আর গুজরাটে বড় কোন চমক নেই। ভারতের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্র নরেন্দ্র মোদী। এখানে তার দল ২০০৯ সালের চেয়ে ভালো করবে। আর ঝাড়খণ্ডে ১৪ আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয় পেতে পারে বিজেপি। বাকি আটটি কংগ্রেস ও অন্য দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হবে।