বৈঠকে বসছেন মার্কিন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউক্রেন সংকট নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকে বসছেন। গতকাল শুক্রবার লন্ডনে তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ক্রিমিয়ায় গণভোটের দুই দিন আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রিমিয়ায় গণভোট হলে এবং রাশিয়া ওই অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসন চালালে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ এর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে বলে বৈঠকে ল্যাভরভকে সতর্ক করতে পারেন কেরি। এদিকে ক্রিমিয়ায় গণভোট নিয়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। খবর বিবিসি রয়টার্সের। বৃহস্পতিবার ইউক্রেন ও মস্কো উভয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে জোর দিয়ে বলেছে তারা যুদ্ধ চায় না। শুক্রবার লন্ডনে পৌঁছানোর আগে কেরি বলেন, সঙ্কট সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা না গেলে সোমবার বিকল্প যে সব ব্যবস্থা হাতে আছে সে অনুযায়ী ইইউ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে খুবই মারাত্মক কিছু পদক্ষেপ আসবে। লন্ডনে পৌছে কেরি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বেঠকে জাতিসংঘে মস্কোর রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন ক্রিমিয়ায় গণভোটের পক্ষ সমর্থন করেন। ক্রিমিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে থাকবে নাকি রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দেবে গণভোটটি হবে সে প্রশ্নে। এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির মুখে লন্ডনে দু’পক্ষের বৈঠককে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা আবারো শুরুর প্রেক্ষাপট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্ব হুমকি দিলেও রাশিয়া গতকালও ক্রিমিয়ায় সৈন্য পাঠিয়েছে। জাহাজ ভরে সৈন্য আসছে ইউক্রেনের আশেপাশে। গতকাল দোনেটেস্ক শহরে এক ইউক্রেনপন্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রুশপন্থী ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের শহর এটি। ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, কমপক্ষে ১৫ জনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া কেবল রুশভাষাভাষীদের রক্ষা করছে। ইউক্রেনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় জনবিক্ষোভের মুখে রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের পতনের পর প্রতিবেশী দুটি দেশ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।