অবশেষে ফিরে এলেন আহাদ
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
অবশেষে ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর মিরপুরের দোকান কর্মচারী মহিউদ্দিন আহাদ (৩০) বাসায় ফিরেছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে মিরপুর-১০ নম্বরের বেনারশী পল্লীর গেটের সামনে আহাদকে কে বা কারা একটি মাইক্রোবাস থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় নামিয়ে দেয়। পরে আহাদ একটি রিকশায় করে চলে যান মিরপুর-২ এর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে তার বাসায়। এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাবা শেখ আবুল হোসেন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তার ছেলে ফিরে এসেছে। গত ৬ মার্চ র্যাব পরিচয়ে চিড়িয়াখানা রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বাসা থেকে মহিউদ্দিন আহাদকে তুলে নেয় একদল ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহাদের বাবা শাহআলী থানায় একটি জিডি করেন। পরে ঐ জিডি অপহরণ মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলায় আহাদের কর্মস্থল গুলশান-২ এর এসএস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ করা হয় যে বিগত মাসের বেতন না দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বেতন চাইলে তাকে হুমকিও দেয়া হয়।
ঘটনার পর আহাদের বাবা শেখ আবুল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে তিনি তার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান।
গতকাল দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ২/৪১(ঘ) নম্বর টিনশেড বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা বেশ খুশি। তাদের সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দের শেষ নেই। তবে সবার মনে একটি জিজ্ঞাসা যে আহাদকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আর কেনই বা তাকে আবার ছেড়েও দেয়া হলো। বিষয়টি কেউই বুঝতে পারছেন না। চার বোনের একমাত্র ভাই আর বাবা-মায়ের একমাত্র অবলম্বন আহাদ। ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাবা শেখ আবুল হোসেন ও মা আমেনা বেগমের মুখে খুশির রেখা ফুটে উঠলেও এখনো আতঙ্ক কাটেনি। ছেলে আবার কোনো বিপদে পড়ে কিনা এজন্য চোখের আড়াল করতে চাইছেন না।
টানা আট দিন চোখ বাঁধা ও হাতে হাতকড়া অবস্থা থেকে ফিরে আসা মহিউদ্দিন আহাদ বলেন, ওরা তুলে নিয়ে গেলেও কেউ নির্যাতন বা মারধর করেনি। এমনকি তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণও বলেনি। শুক্রবার ভোরে গাড়িতে নিয়ে তোলার সময় মনে হয়েছে, আবার বোধহয় নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাবে। কিন্তু বেশ কিছু সময় গাড়ি চলার পর নামিয়ে দেয়ার পর বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে এ যাত্রায় বাড়ি ফেরা হবে।