সাংবাদিক দম্পতিকে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার রাতে এক সাংবাদিক দম্পতিকে পিটিয়ে আহত করেছে আনসার সদস্যরা। শুধু তাই নয়, আনসার সদস্যরা তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন এশিয়ান টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তৌহিদ শান্ত ও তার স্ত্রী বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার সাজেদা সুইটি। শ্যামলীর পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) কার্যালয়ের আনসার ক্যাম্পের ৬/৭ জন সদস্য এই হামলা করে। তারা ওই দুই সাংবাদিকের বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করারও হুমকি দেয়। ঘটনার সময় এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। নির্যাতনে সাজেদা সুইটির ডান হাত কেটে গেছে। ঘটনার পর পুলিশ ও এলাকাবাসী ওই দুই সাংবাদিককে আনসার সদস্যদের হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে মোহাম্মদপুর থানায় সাজেদা সুইটি বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭/৮ জন আনসার সদস্যকে আসামি করে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা করেন। সাংবাদিক সাজেদা সুইটি জানান, রাতে অফিসের কাজ শেষে স্বামীর মোটর সাইকেলে আদাবরে নিজেদের বাসায় ফিরছিলেন। পথে নিজস্ব বিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর জেনে তা মোবাইল ফোনে অফিসকে জানাচ্ছিলেন। রাস্তায় গাড়ির শব্দে নিউজ দিতে সমস্যা হওয়ায় মোটর সাইকেল থামিয়ে তিনি পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুই আনসার সদস্য সুইটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এ দৃশ্য দেখে তার স্বামী তৌহিদ শান্ত এগিয়ে আসেন। তিনি আনসার সদস্যদের কাছে ঘটনার প্রতিবাদ করতেই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আরো ৪/৫ জন আনসার সদস্য ছুটে এসে তাদের আটক করে ক্যাম্পের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে দুইজনকেই রাইফেলের বাট দিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে সাজেদা সুইটি মেঝেতে পড়ে যান। তৌহিদ শান্ত চিত্কার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এসময় জনতার কাছ থেকে খবর পেয়ে শ্যামলী ক্রসিংয়ে দায়িত্বপালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট সানোয়ার দুই কনস্টেবলসহ সেখানে উপস্থিত হন। এর আগে জনতা পিকেএসএফের গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে ওই দম্পতি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এদিকে ঘটনার পর গতকাল সকালে আনসারের ঢাকা রেঞ্জ কমান্ডার মাহবুবল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে আনসারের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় রাত ১১টার দিকে একজন নারী পিকেএসএফের পকেট গেট দিয়ে হঠাত্ প্রবেশ করে ৭/৮ মিনিট ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। ঐসময় আনসার সদস্যরা তাকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে আনসারদের অনুরোধ তিনি শোনেননি। এ নিয়ে ঐ নারীর সঙ্গে আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হলে সেখানে তার স্বামী উপস্থিত হন। ঐ ব্যক্তিই প্রথমে একজন আনসার সদস্যের গায়ে হাত তুললে পরিস্থিতি অন্যদিকে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, এরপর ঐ ব্যক্তি পিকেএসএফ থেকে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকে জানায় যে তার স্ত্রীকে আনসরা সদস্যরা আটকে রেখেছে। এমন তথ্যে জনতা উত্তেজিত হয়ে পিকেএসএফের গেট ভেঙ্গে ফেলে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা ঘটেনি। তাই এ বিষয়ে আনসারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হবে। এদিকে সাংবাদিক দম্পতির ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।