মরিচ চাষে অভাব দূর

মরিচ চাষ করে অভাব দূর হয়েছে কাজীপুর উপজেলার যমুনা পাড়ের দরিদ্র চাষীদের। প্রমত্তা যমুনার ভাঙ্গাগড়ার কবলে পড়ে এক দশক আগেও যাদের তিনবেলা খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হতো তারা আজ মরিচ চাষ করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন। প্রতি বছরের মত এবারও এলাকার প্রায় ৭৫ ভাগ কৃষক মরিচ চাষ করেছে। চরাঞ্চলের উর্বর পলি মাটিতে কম খরচে অধিক লাভজনক মরিচ আবাদ করে সুখের মুখ দেখছেন গরিব কৃষকরা। এলাকার অনেক দরিদ্র কৃষক মরিচ আবাদ করে ২/৩ বছরেই স্বাবলম্বী হয়েছে। এলাকার কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে ১৭/১৮ হাজার টাকা খরচ হয় এবং এক বিঘা জমি থেকে ৪/৫ মণ কাঁচা মরিচ ছাড়াও ৮/৯ মণ শুকনো মরিচ পাওয়া যায়। উত্পাদন খরচ বাদে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়। কাজীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যমুনার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন কৃষকরা। আগাম চাষের কাঁচা মরিচ বিক্রি করে ক্ষেত থেকে এখন পাকা মরিচ তুলছেন কৃষকরা। পীরগাছা গ্রামের কৃষক শফি মন্ডল জানান, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করে তার প্রায় ১ লক্ষ টাকা লাভ হয়েছে। এবারও তিনি আড়াই বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছে। নাটুয়ারপাড়া গ্রামের ভূমিহীন কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, গত ৩ বছর ধরে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার জানান, অল্প খরচে মরিচ আবাদ করে চরাঞ্চলের অনেক দরিদ্র কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চরাঞ্চলবাসী তাদের উত্পাদিত ফসল আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে পারেন না।