‘ভেনেজুয়েলায় সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছেন জন কেরি’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে সহিংসতার উত্সাহদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে ‘খুনি’ বলেছেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইলিয়াস জাওউা। ভেনেজুয়েলার সরকার ‘নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী প্রচারণা’ চালাচ্ছে— কেরির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত শুক্রবার জাওউা এ কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাওউা বলেন, কেরির বৃহস্পতিবারের কঠিন মন্তব্যের পর তিনি তার বক্তব্য ‘লঘু’ করতে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘মি. কেরি, এই পৃথিবীর সামনে আমরা আপনাকে নিন্দা জানাচ্ছি। আপনি ভেনেজুয়েলায় সহিংসতার উত্সাহ দিচ্ছেন এবং পৃথিবীর সব অংশ থেকে আমরা এর নিন্দা জানাব। ভেনেজুয়েলার জনগণের খুনি হিসেবে আমরা আপনার নিন্দা জানাই’। জাওউা আরো বলেন, ‘প্রত্যেকবার আমরা বিচ্ছিন্ন করার কাছাকাছি হই এবং এবং সহিংসতা কমিয়ে আনি, এর ফলে মি. কেরির একটি বক্তব্য আসে এবং সহিংসতার প্রধান স্থানগুলোতে রাস্তা অবরোধ পুনরায় কার্যকর হয়’। এদিকে, জাওউার বক্তব্য নিয়ে মর্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মেরি হার্ফ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সরকার বিক্ষোভ নিয়ে ‘সত্য বলছে না’। এক মাসেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সরকার এই অস্থিরতা তৈরির জন্য বার বার যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, অস্থিরতার মধ্যে ক্যুর পরিকল্পনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘ডানপন্থি ফ্যাসিস্টদের’ সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ভেনেজুয়েলা তার অভ্যন্তরীণ সংকটের জন্য এসব অজুহাত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করলেও এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে কিছু পরামর্শের প্রস্তাব দিয়েছেন।