ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কা
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৯
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক বলছেন, নিখোঁজ হওয়া বোয়িং-৭৭৭ বিমানটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকল করে দেয়া হয়েছিল এবং বিমানটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ছিনতাইয়েরও আশঙ্কা করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দেননি। তিনি নিশ্চয়তা না দিলেও বিমানটি ছিনতাই হতে পারে এমন ধারণাই জোরালো হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। যাত্রীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাইলটের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তার বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের নৌবাহিনীর দুটি ফ্রিগেটও গতকাল থেকে অনুসন্ধান শুরু করেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন’র।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মনে হচ্ছে বিমানের ভেতরে থাকা কেউ একজন বিমানটিকে অন্য কোনো দিকে নিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, শেষ যোগাযোগের পরও ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি অন্তত সাত ঘন্টা উড়েছিল বলে তারা সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছেন। শুক্রবার পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল যে বিমানটি হারিয়ে গেছে এমন খবর বেরুনোর পরেও পাঁচ ঘন্টা পর্যন্ত তা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাভাবিকভাবে সংকেত পাঠানো হচ্ছিল। রাজ্জাক বলেন, নিখোঁজ বিমানটির সন্ধান পেতে এখন অন্যান্য এলাকার দিকে তারা দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন। তিনি জানান, সবশেষ উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে যে কুয়ালালামপুর থেকে বেজিংগামী বিমানটি পেছন ফিরেছিল এবং তারপর অন্তত দুবার গতিপথ পরিবর্তন করেছিল। প্রথমবার পশ্চিম দিকে এবং তার পর উত্তর পশ্চিম দিকে।
নাজিব রাজ্জাক বলেন, তারা এখন দক্ষিণ চীন সাগরে অনুসন্ধানকাজ বন্ধ করে বিমানটির দুটি সম্ভাব্য গতিপথ বরাবর খোঁজ নেয়া শুরু করবেন। একটি হলো কাজাখস্তান ও তুর্কিমেনিস্তানের সীমান্ত থেকে শুরু করে উত্তর থাইল্যান্ড পর্যন্ত। আর অপরটি হলো ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ দিক পর্যন্ত। মালয়েশিয়ার গোয়েন্দা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, অপহরণই করা হয়েছে বেজিংগামী এমএইচ ৩৭০-কে। চালক অথবা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে নিখোঁজ বিমানটিকে অপহরণ করেছে বলে এ দিন দাবি করেছেন মালয়েশিয়া সরকারের এক মুখপাত্র।
প্রধানমন্ত্রী রাজ্জাক আরো বলেন, বিমানটি ছিনতাই হতে পারে এমন গুজব সত্বেও মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনো সব রকম সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে। এর আগে বার্তা সংস্থা এপি একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, তদন্তকারীরা এখন মনে করছেন যে বিমানটি ছিনতাই করে গতিপথ পরিবর্তন করানো হয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে উদ্দেশ্য কি ছিল এবং বিমানটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। তদন্তের স্বার্থে এ দিন এমএইচ-৩৭০-এর চালক জাহারি আহমেদ শাহের বাড়িতে যান মালয়েশিয়ার পুলিশের দু’জন কর্মকর্তা। ৫৩ বছর বয়সী বিমানচালক ১৮ হাজার ৩৬৫ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং তিনি এক জন প্রশিক্ষকও বটে। অন্যান্য যাত্রীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। বিমানটির জন্য অনুসন্ধান কাজে ১২টি দেশের লোকেরা কাজ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ এবং পর্যবেক্ষণ বিমান পাঠিয়েছে যা দিয়ে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধান চালানো হবে। বিমানটির খোঁজে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপগুলোতে অনুসন্ধান শুরু করেছে ভারতীয় সামরিক বিমান।