এমপিদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছে ইসি
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩১
উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লংঘনে এমপিদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এবার স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বেশ কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সংসদ সদস্যদের যত্নবান হতে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের সভাপতিত্বে কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় অন্য তিন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম অংশ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন ছুটিতে দেশের বাইরে রয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন কমিশনার ইত্তেফাককে জানান, রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, নড়াইল-১ আসনের কবিরুল হক এবং নড়াইল-২ আসনের শেখ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি মো:নজরুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল চন্দনাইশ উপজেলার ৯নং কেন্দ্রে দলবল নিয়ে উপস্থিত হয়ে ভোটগ্রহণে বাধা দেন। তিনি তাত্ক্ষণিক কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি জানালে স্থানীয় প্রশাসন তাতে আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে একজন নির্বাচন কমিশনার ঢাকা থেকে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এমপিদের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে চিঠি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় আলাপকালে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখনও চিঠি পাঠানো হয়নি। চিঠিতে কয়জন এমপির বিরুদ্ধে আভযোগ দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সিরাজুল বলেন, চিঠি পাঠানোর আগে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, বাড়তে বা কমতে পারে।
উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী আচরণবিধি লংঘনের বিষয়ে এমপিদের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা নেই। যে কারণে সরাসরি কমিশনের পক্ষে এমপিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বিধিমালার ২২ ধারায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী কতিপয় ব্যক্তির নির্বাচনী প্রচারণা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বাধা-নিষেধের’ ক্ষেত্রে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং সরকারে কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদাসম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগী কোন ব্যক্তি নির্বাচনের প্রচার বা কার্যক্রম অংশ নিতে পারবে না। এই সংজ্ঞায় এমপিদের কথা উল্লেখ না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কমিশন সরাসরি কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ মার্চ তিনি ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ১৬২ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে স্থানীয় সাফিনা পার্কে বনভোজনে অংশ নেন। সেখানে তিনি তার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন এবং তাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
নড়াইলে আচরণবিধি লংঘন করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হলে তাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক ও নড়াইল-২ আসনের এমপি শেখ হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন। ওসি আলমগীর হোসেন মাইক নিয়ে বলেন, ‘ওই লাঠিচার্জের জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’