সাহসিকা সাত নারী
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:২৭
নারী অধিকার রক্ষায় নাইজেরিয়া, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, উত্তর আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, রাশিয়া ও পাকিস্তানের সাত প্রতিবাদী নারীর জীবন অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সেভেন। মূলত নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সাতজন প্রতিবাদী নারীর জীবনের আলোকে নাটকটি গড়ে উঠেছে। কিছুটা কথোপকথন এবং বাকিটা ওই সাত নারীর জীবনকাহিনী পাঠের মাধ্যমে নাটকটি উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবারই নতুন নতুন ব্যক্তি, যারা রাজনীতি, গণমাধ্যমসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্বকারী, তারাই নাটকটি উপস্থাপন করেছেন।
এবার ঢাকায় নাটকটি উপস্থাপন করলেন সাত রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা। সুইডেনের নাট্যকার ও প্রযোজক হিডা ক্রাউসজ সোগরেন দ্য ন্যাশনাল টুরিং থিয়েটার ও দ্য সুইডিশ ইনস্টিটিউটের সহায়তায় সেভেন নাটকটির মঞ্চায়ন ধারণা তৈরি করেছেন।
নাইজেরিয়ার মানবাধিকারকর্মী হাফসাত আবিওলার চরিত্রে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হান ফুগল এশকার, কম্বোডিয়ার সাবেক মন্ত্রী মু সচুয়ার চরিত্রে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এনেলি লিন্ডাল কেনি, গুয়াতেমালার সাবেক কংগ্রেস সদস্য আনাবেলা ডি লিওনের চরিত্রে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেট লুন্ডেমো, উত্তর আয়ারল্যান্ডের মানবাধিকারকর্মী ইনেজ ম্যাকরম্যাকের চরিত্রে ইউএন উইমেনের এদেশীয় প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার, আফগানিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফরিদা আজিজির চরিত্রে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাতাভেল পিচিন, রাশিয়ার নারী আন্দোলনের কর্মী মারিনা পিসক্লাকোভার চরিত্রে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন এবং পাকিস্তানের প্রতিবাদী নারী ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মুখতার মাইয়ের চরিত্রে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ক্যাম্পোস ডা নোবরেগা অভিনয় করেন।
নাইজেরিয়ায় বাবা-মাকে হত্যার পর মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেন হাফসাত আবিওলা। কম্বোডিয়ার মু সচুয়া সে দেশের নারীদের যৌনতার উদ্দেশ্যে পাচার বন্ধে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করেছেন। গুয়াতেমালার আনাবেলা ডি লিওন দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি দরিদ্র, বিশেষ করে আদিবাসী নারীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার রয়েছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইনেজ ম্যাকরম্যাক নারীদের পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
আফগানিস্তানের ফরিদা আজিজি তালেবান শাসনামলে নারীদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। রাশিয়ার মারিনা পিসক্লাকোভা তার দেশে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের সহায়তায় হটলাইন চালু করেন। পাকিস্তানের মুখতার মাই গণধর্ষণের শিকার হন এবং সামন্ত প্রভুদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ধর্ষণকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ছয়শ’ নারী-পুরুষ নাটকটি উপস্থাপন করেছেন। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আফগানিস্তান, সার্বিয়া, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিশ্বের ২৩টি দেশে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। ২০টি ভাষায় নাটকটি অনূদিত হয়েছে।