হ লি উ ড .....................................

ভালোবাসাই সৌন্দর্য লুপিটা নিওঙ্গোর

টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে এবারের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন কেনিয়ান বংশোদ্ভুত মেক্সিকান অভিনেত্রী লুপিটা নিওঙ্গো। পুরস্কার জিতে পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে আনন্দে ভাসানোর পর নিওঙ্গো যে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ ছবিটির মতোই মানবিক আবেদনে ভরপুর ছিল সেটিও। নিওঙ্গোর উচ্চারিত প্রতিটি শব্দেই ভাষা পেয়েছে কালো মানুষদের নিরন্তর লড়াইয়ের কাহিনী। নিওঙ্গোর নিজের গল্প ছাপিয়ে এটি হয়ে উঠেছে পুরো বিশ্বের সমস্ত কালো মানুষের জীবনের কথকতা। ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাত্কারের চুম্বক অংশ— একটা সময় ছিল যখন আমি প্রতিদিন টিভি খুলতাম আর দেখতাম ফ্যাকাসে চেহারার কিছু নারীর। সেই চেহারাগুলো আমাকে মনে করিয়ে দিত আমার রাতের মতো কালো মুখাবয়বের কথা। তাদের মুখগুলো যেন আমাকে তাচ্ছিল্য করতো। আমি শিউরে উঠতাম। ঈশ্বর যাকে আমি সর্বশক্তিমান হিসাবে মনে করতে শিখেছি, তার কাছে আমার শুধু একটা প্রার্থনাই ছিল; তিনি যেন আমার গায়ের রংকে কিছুটা হলেও উজ্জ্বল করে তোলেন। প্রতিটি নতুন সকাল আমার কাটতো উত্তেজনায়। আমি ভাবতাম আজ বোধহয় সেই দিন। আমি এতটাই উত্তেজিত থাকতাম যে আয়নার দিকে একবার তাকানোর আগ পর্যন্ত নিজের দিকে আমি ভুলেও তাকাতাম না। বলা বাহুল্য, প্রতিটি সকালের শেষটা হতো হতাশার। প্রতিটি সকালই আমাকে শোনাতে আশাভঙ্গের গল্প। আগের দিনের মতোই আমি সেই কালোটাই থেকে যেতাম। হঠাত্ একদিন আমার মাথায় একটা বুদ্ধি চাপলো। আমি ভাবলাম ঈশ্বরের সাথে আমি একটা সমঝোতায় আসি না কেন! সেদিন থেকে আমি তাকে বলতে থাকলাম, যদি তুমি আমার ইচ্ছা পূরন করো তাহলে কাল থেকে আমি চিনি চুরি করা ছেড়ে দেব। আমি আমার মায়ের প্রতিটি কথাই মেনে চলবো, স্কুল থেকে ফেরার পথে আমি আর সোয়েটারও হারাবো না। তবে ঈশ্বর বোধহয় আমার সাথে সমঝোতায় আসতে রাজি ছিলেন না! তা না হলে এমনটা হবে কেন! প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখতাম আমি সেই আগের আমিই রয়ে গেছি। আমার মা প্রায়ই আমাকে বলতো তুমি কখনো সৌন্দর্যকে খেতে পারবে না। এটা তোমাকে খাওয়ানোও যাবে না। আমি তার কথা বুঝতে পারতাম না। তবে একদিন আমি ঠিকই বুঝতে পারলাম তার কথার অর্থ। আমি বুঝলাম সৌন্দর্যকে আসলে কেনা যায় না। এটাকে অর্জনও করা যায় না। এটা আসলে এমন একটা কিছু যে, নিজে থেকেই সুন্দর হতে হয়। আমি বুঝতে পারলাম মা আসলে আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন, কেবল শারীরিক সৌন্দর্য তোমাকে কখনোই গড়ে তুলতে পারবে না। আমি বুঝলাম সৌন্দর্য হচ্ছে, আপনার নিজের প্রতি, কাছের মানুষগুলোর প্রতি আপনার ভালবাসা। এই সৌন্দর্যই কেবলমাত্র আপনার মনকে বিনোদিত করতে পারে, হূদয়কে ভাসাতে পারে অনির্বচনীয় আনন্দে।