গল্প নয় সত্যি

শিশুকে কাঁদতে দিন!

আপনি যদি সন্তানের মা-বাবা হন কিংবা কমবয়সী কোনো আপনজনও যদি নেহাত থেকে থাকে, তাহলে শিশুর কান্না আপনার ভালো লাগবার কথা নয়। একইভাবে কমবয়সী একটা শিশু একাকী সময় কাটাবে এটাও মেনে নিতে চাইবেন না অধিকাংশ মানুষ। অথচ মা-বাবা কিংবা আপনজনকে বিচলিত করে তোলা শিশুর এই কান্না কিংবা একাকিত্ব যে সবসময়ই খারাপ তা কিন্তু নয়। বরং একটু আধটু কান্না আর একাকী সময় শিশুদেরকে পক্ষান্তরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করে বলেই দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। তাদের দাবি, শিশুর কান্নাটি যদি পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়া বা অন্য কোনো শারীরিক অস্বস্তিজনিত কারণে না হয়, তাহলে শিশুটির দিকে সাথে সাথে নজর না দিয়ে তাকে বরং কিছুটা সময় কাঁদতে দেওয়া উচিত! এছাড়া শিশুটির জন্য বাধাহীন একটি পৃথিবী ও বাস্তবতা উপহার না দিয়ে তাকে মাঝে মাঝে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করার সুযোগও দিতে বলেছেন এই গবেষকরা। তাদের যুক্তি, এভাবে প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে বড় হওয়া শিশুরা নিজে থেকে অনেক কিছু করতে চেষ্টা করে এবং এটি ক্রমে ক্রমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখে। এ প্রসঙ্গে গবেষণা দলের প্রধান এবং মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডক্টর আন্না প্রাইস বলেন, কোনো ধরনের বাধা বা কান্নার ঘটনা ছাড়া বড় হয়েছে এমন শিশুদের মধ্যে যেসব অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় সেটি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে থাকে না। সবমিলিয়ে গবেষণার সারমর্ম হিসেবে বহু মা-বাবার কাছে অপ্রিয় কিছু কথাই বলেছেন এই গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, জোর করে না কাঁদালেও যেসব কান্নায় শিশুর অস্বস্তির বিষয়টি জড়িত নয় তেমন ধরনের কান্না চটজলদি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সাথে শিশুটিকে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য একা রাখার পরামর্শটিও জুড়ে দিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, সাত মাস থেকে ছয় বছর বয়সী ৩২৬টি শিশুর আচার-আচরণ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয় এই গবেষণা প্রবন্ধটি।