নগর সংস্কৃতি
ওয়াহিদুল হকের জন্মদিনে ছায়ানটে আনন্দ-হিল্লোল
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২২:১৬
ওয়াহিদুল হকের জন্মদিনকে ঘিরে ছায়ানট ভবনে আনন্দের হিল্লোল। শিশুদের হুটোপুটি ছোটাছুটি, আর নানা আয়োজনকে ঘিরে কথার ফোয়ারা। নালন্দার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তৌসিফ উল আলম বললো, ‘ওয়াহিদুল হকের জন্মদিন উদযাপনের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন।’ ছায়ানট ভবনে ঘুরে সেই প্রমাণও মিললো। তৃতীয় তলায় রয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। নালন্দার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজনের ছবি। সে সব ছবিতে ওয়াহিদুল হক। তার সেই চির পরিচিত হাসি— স্মৃতিকাতর করে তোলে সবাইকে। ভবনের এক কোণে এসব ছবি বড় পর্দায় স্লাইড শো চলছিল। এদিকে, চতুর্থতলায় ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা রান্না করে এনেছে। স্কুলের শিক্ষক, ছায়ানটের সদস্যরা সে সব খাবার খাচ্ছেন। দেয়াল জুড়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নানা ভাবনার কথা। ওয়াহিদুল যা বিশ্বাস করতেন সে সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মত করে লিখেছে। ওয়াহিদুল হকের বিশ্বাস এভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে তরুণ প্রাণে। ছায়ানটের নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিক বেলাল বললেন, ওয়াহিদুল হকের মৃত্যু নেই। তার কাজ, তার আদর্শ আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে। সেই বিশ্বাস প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে। সন্ধ্যায় নালন্দার শিক্ষার্থীরা ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করেছিল পাঠ-আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের। ‘তুমি নির্মল কর’ সমবেত কণ্ঠে এ গান দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর ছিল নৃত্য পরিবেশনা, গল্প বলা, ছড়া পাঠসহ মজার আয়োজন। সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে ‘মা’ শিরোনামে দলবদ্ধ প্রদর্শনী
গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শনিবার শুরু হয়েছে ‘মা’ শিরোনামে আট শিল্পীর দলবদ্ধ প্রদর্শনী। প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের সমন্বয়ে এ প্রদর্শনীতে ৩৪টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া আট জন শিল্পীরা হলেন- শিল্পী মনিরুল ইসলাম, রফিকুন নবী, কালিদাস কর্মকার, রোকেয়া সুলতানা, বিশ্বজিত্ গোস্বামী, ইয়াসমিন নাহার নূপুর, অসীম হালদার সাগর ও খালেদ মাহমুদ। উদ্বোধনী পর্বে শিল্পীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গ্যালারির পরিচালক নওশীন খায়ের। প্রদর্শনীটি আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল নৃত্যের প্রসারে কর্মশালা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাচ মানুষের কাছে প্রিয় হলেও এসব নাচের প্রসার বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সমপ্রতি শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেলের উদ্যোগে ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ১০ দিনের প্রযোজনাভিত্তিক নৃত্য কর্মশালা। গতকাল রবিবার ছিল এই কর্মশালার সমাপনী। সমাপনী উপলক্ষে একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রে মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য নাচের আয়োজন। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গা, বম ও গারো সম্প্রদায়ের ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী দলগতভাবে পরিবেশন করেন পাহাড়ি জুম নৃত্য, বন-বাঁদাড়ে শিকারি নৃত্য, বোতল নৃত্য, বাঁশ নৃত্য, ছাতা নৃত্য ও পাখা নৃত্যসহ ১২টি দৃষ্টিনন্দন মোহনিয়া নৃত্য প্রযোজনা।
তবে এর আগে কর্মশালায় অংশ নেয়া শিল্পীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুর রশিদ ও আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। এ সময় একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী ও একাডেমির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেল-এর সহকারী পরিচালক এস এম শামীম আকতার।