ভালোর সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চান মুশফিক
শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:২৩
আফগানিস্তানকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেছে টাইগাররা। বিশেষ করে বোলিং, ফিল্ডিং বিভাগে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। সাফল্যের এ ধারা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ধরে রাখতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিক।
আসলে এই ভালোর ধারাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না মুশফিক। গতকাল পরিষ্কার বলে দিলেন, নিজেরাই ছাড়িয়ে যেতে চান নিজেদের অতীতের ভালোর সীমানা। আর মুশফিক মনে করেন সেটা একমাত্র সম্ভব দলকে উজ্জীবিত রাখার মাধ্যমে। এই সীমানা ছাড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে যেকোনো মূল্যে সুপার টেন এর চৌকাঠ মাড়াতে চান মুশফিক।
গতকাল সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেখানে আজকের নেপাল ম্যাচের প্রসঙ্গ যেমন এলো তেমনি ঘুরে ফিরে এলো আগের দিনের আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গও। মুশফিক নিজেও মানছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স করেছেন, তারা সেটা ধরে রাখতে পারলে বাকি সাফল্যগুলোও আসতে থাকবে, ‘আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অসাধারণ একটা ম্যাচ খেলার পর দারুণ উজ্জীবিত আমরা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংসহ সব ডিপার্টমেন্টেই ছেলেরা অনবদ্য খেলা খেলেছে। আমরা চাই দলের এই উজ্জীবিত অবস্থাটা যেন না হারায়। টি-২০ ক্রিকেটের মূল কথাই হলো মোমেন্টাম ধরে রাখা। সেটা অব্যাহত রাখতে পারলে পরের ম্যাচগুলোতেও সাফল্য আসবে, একথা একদম নিশ্চিত করেই বলা যায়।’
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে নেপালের বিরুদ্ধে নামছে স্বাগতিকরা। ম্যাচের আগে দলের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘গত ২-৩ বছর আমরা যেমন খেলেছি, সে তুলনায় গত ২-৩ মাসে সেভাবে রেজাল্ট আসেনি। ফলে পজেটিভ কিছু ফল আসতে শুরু করায় এখন সবার আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের এই জয়ের সে াতে আসাটা জরুরি ছিল। সেটা আসতে পেরেছি।’
একইসঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের ওপর মুশফিকের এটুকু ভরসা আছে যে, তারা আরেকটা জয় আজই এনে দিতে পারবেন, ‘আমাদের দলে এখন অনেক ম্যাচ উইনার রয়েছে। ভালো স্পিনার আছে। রুবেল, আল আমীনরা ভালো করছে। কঠিন পরিস্থিতি তারা ভালোই সামাল দিতে জানে। আগামী ম্যাচগুলোতে সকলের মনোবল চনমনে আর চাঙ্গা থাকলে বাংলাদেশ ভালো করবে।’
নেপালের বিপক্ষে মাশরাফির খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুশফিক সরাসরি উত্তর দিলেন না। শুধু দলে মাশরাফির অপরিহার্যতাটা বুঝিয়ে দিলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি গত ম্যাচে যা করেছেন, সেরকম কিছু আমাদের জয়ের জন্য সবসময়ই দরকার।’
এসব কথাবার্তার মানে আবার এই নয় যে, নেপালকে বাংলাদেশ ছোট করে দেখছে বা জয় নিশ্চিত ধরে নিয়েছে। মুশফিক পরিষ্কার বললেন, এই ফরম্যাটে অচেনা-চেনা সব দলই খুব বিপজ্জনক, ‘টি-২০ ফরমেট আসলে ভীষণ বিপজ্জনক। এই ফরমেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো করা কঠিন কাজ। এখানে ছোটো-বড় বলে কোনো কথা নেই। যে কেউ হারতে পারে আবার জিততেও পারে। তবে মঙ্গলবার নেপালকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে আমরা। ব্যবধানটা ১০ উইকেটের হোক অথবা হোক ১ রানের, জয় ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।’ আগের দিন সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, নেপাল ও হংকং সম্পর্কে ধারণা পেতে তারা এই দল দুটোর অনুশীলন ম্যাচের ফুটেজ জোগাড় করেছেন, একমাত্র ম্যাচটি দেখেছেন এবং ইউটিউবেও কিছু ফুটেজ খুঁজে বের করেছেন।
গতকাল মুশফিকও বললেন, তারা নেপালের বিভিন্ন খেলার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখেছেন। সব মিলিয়ে তারা দলটিকে নিয়ে যতোটা সম্ভব হোমওয়ার্ক করছেন, ‘আমরা ওদের বেশকিছু ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া ফতুল্লায় তাদের অনুশীলন ম্যাচও দেখেছি। যথাসম্ভব বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি। এটুকু বলা যায়, নিঃসন্দেহে তারা ভালো টিম। বেশকিছু স্কিল্ড খেলোয়াড় আছে। তবে আমরাও জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে লড়াই করবো। বাকিটা সময় বলবে।’
সেই সময়টাকে ‘ভালো সময়’ করার দায়িত্ব মুশফিকদেরই।