সাঙ্গাকারার পর মাহেলারও ‘বিদায়’
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:২৪
আমার বয়স এখন ছত্রিশ, বিশ্বকাপ আসতে আসতে আমার সাইত্রিশ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় না পরে আরও একটা বিশ্বকাপ খেলার জন্য আমি ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত ক্যারিয়ার লম্বা করব। সুতরাং ২০১৫ বিশ্বকাপই আমার শেষ বিশ্বকাপ।
সংবাদ সম্মেলনটা ছিল শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপে সম্ভাবনা, বাস্তবতা, প্রত্যাশা; এসব নিয়ে। প্রথমে অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলন করে গেলেন এবং তারপর তিন খেলোয়াড় ‘ওপেন মিডিয়া সেশন’ করলেন। কিন্তু পুরো কথোপকথনটা শুনলে মনে হবে, কুমার সাঙ্গাকারার টি-টোয়েন্টি বিদায় উপলক্ষে বুঝি কোনো আলোচনা সভা ছিল ওখানে!
সাঙ্গাকারার সতীর্থরা সবাই জোর দিয়ে বলে গেলেন, তারা এই গ্রেট সতীর্থর বিদায়ী উপহার হিসেবে এই টুর্নামেন্টটা জিতে দিতে চান। কিন্তু তখনও আসলে কেউ জানেন না, এই ‘উপহার’টার আরও একজন দাবিদার তৈরি হয়ে যাবেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা গেল, এই বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আর খেলবেন না মাহেলা জয়াবর্ধনেও।
কুমার সাঙ্গাকারা আগের দিন যা বলেছিলেন, গতকাল একই কথা বলে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন জয়াবর্ধনে। এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘হাই, আমি নিশ্চিত করছি যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আমি আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবো না। সাঙ্গার মতোই বলতে চাই, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার কোনো সম্ভাবনাই নেই আমার। আর আমাদের পরের বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও আসলে এই বিশ্বকাপ শেষেই শুরু হয়ে যাওয়া উচিত। ফলে এখন তাদেরই খেলা উচিত, যারা পরের বিশ্বকাপ খেলতে পারবে। আমার জন্য শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলাটা অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। আশা করি, দল সামনে আরও ভালো করবে। সবাইকে সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ।’
সাধারণত যে ধারণা করা হত যে, ক্লাস খেলোয়াড়দের জায়গা টি-টোয়েন্টি নয়, তার বিপরীতে খেলে এই ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ৪৯টি ম্যাচে ১৩৩৫ রান করেছেন ৩১.৭৮ গড়ে; স্ট্রাইক রেট ১৩৪.১৭!
এর আগের দিনই একই কারণ দেখিয়ে এই বিশ্বকাপের পর থেকে আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ৫০ ম্যাচে ৩২.৭৭ গড়ে ১৩১১ রান করা কুমার সাঙ্গাকারা।
দুই বন্ধুর ঠিক একই কারণে একই সময়ে এই অবসর নেয়ার দিনেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি অবশ্য নানাভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করলেন, এটাই আসলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার বা জয়াবর্ধনের এখন আর এই ফরম্যাটে খেলে যাওয়ার যে কোনো অর্থ হয় না, সেটাই বললেন এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান, ‘আমার মনে হয় না সিদ্ধান্তটা কারও কাছে বড় কোনো চমক ছিল। আমার মনে হয় এটা সবাই বোঝে যে এই বিশ্বকাপের পর আমার আর দেশের হয়ে খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং এটাকে সবাই একটা স্বভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই নিয়েছে আশা করি। সিদ্ধান্ত নেয়াটাও খুব একটা কঠিন ছিল না, কারণ নিকট ভবিষ্যতে বড় কোন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নেই। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা আমরা খুব বেশি হলে দুয়েকটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলব। সুতরাং আমি ঘোষণা দেই আর না দেই এই টুর্নামেন্টই হতো আমার শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা।’
শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, ওয়ানডেরও আসলে শেষটা খুব বেশি দূরে দেখছেন না সাঙ্গা। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আর যে বেশিদিন ওয়ানডে খেলবেন না, সেটাও বুঝিয়ে দিলেন, ‘গত বছর আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলিনি, আশা করছি সামনে বেশ কিছু খেলতে পারব। আর ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয় চার বছর পর পর। আমার বয়স এখন ছত্রিশ, বিশ্বকাপ আসতে আসতে আমার সাইত্রিশ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় না পরে আরও একটা বিশ্বকাপ খেলার জন্য আমি ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত ক্যারিয়ার লম্বা করব। সুতরাং ২০১৫ বিশ্বকাপই আমার শেষ বিশ্বকাপ। বাকি সিদ্ধান্তটা এর পরে।’
তবে এসব আন্তর্জাতিক ছেড়ে দিলেও ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক লিগগুলো খেলা চালিয়ে যাবেন সাঙ্গাকারা। এর পেছনে কেউ যদি অর্থকে কারণ মনে করে, তাও নাচার তিনি, ‘একটা কারণ তো, আমি এই ফরম্যাটটা উপভোগ করি। হ্যাঁ, টাকা একটা ব্যাপার। যে যাই মনে করুন, আমরা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট দিয়েই আয় করি, আর কিছু পারি না। ফলে এ নিয়ে কিছু মনে করার নেই।’