মিনু-নাদিমের দ্বন্দ্ব ফের চরমে
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
রাজশাহীর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব ফের চরম আকার ধারণ করেছে। গত বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অবশ্য এই দুই নেতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে দল সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র হিসেবে জয়ী করান। এর সপ্তাহ খানেক পরই এই দুই নেতা আবার কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন নিয়ে সমপ্রতি তাদের সম্পর্কটা আরো বেশি তিক্ত হয়ে ওঠেছে। একক চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থন নিয়ে তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।
মিজানুর রহমান মিনু দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর কমিটির সভাপতি। আর নাদিম মোস্তফা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সভাপতি। দুই নেতার দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর। মহানগর ও জেলা বিএনপিতেও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এছাড়া দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দেয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি জেলায় মাথা ঘামাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, সমপ্রতি নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলেন মিজানুর রহমান মিনুর অনুসারী বলে পরিচিত জেলা বিএনপির একাংশের (নাদিমের নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটি কর্তৃক বহিষ্কৃত) নেতাকর্মীরা। তারা নাদিম মোস্তফাকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর সোনার মুকুট উপহার নিয়ে দলের সুনামহানি করেন। একই সঙ্গে জঙ্গি নেতা বাংলাভাইকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে তিনি সারা দেশে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। এছাড়া বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আট বছর ধরে জেলার সভাপতি নাদিম মোস্তফা নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, দুইদিন পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে নাদিম মোস্তফার অনুসারী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দলের দুঃসময়ের নেতা রিজভী আহমেদ ও নাদিম মোস্তফাকে জড়িয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের কথিত অভিযোগ তুলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। নাদিম মোস্তফা সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর জেলা বিএনপি শক্তিশালী হয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারিত হয়েছে।
এদিকে চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে বাগমারায় দুই পক্ষ থেকে দু’জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। রিজভী আহমেদ ও নাদিম মোস্তফার পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে মোখলেসুর রহমানকে মনোনীত করা হয়। অন্যদিকে মিজানুর রহমান মিনু ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ ১৯ দলের পক্ষ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে সমর্থন দিচ্ছেন বলা শোনা যাচ্ছে। একই ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলায়ও। মিনু ও নাদিমপন্থি একাধিক নেতা রয়েছেন দলীয় মনোনয়নের তালিকায়।
এছাড়া আগামী ২৩ মার্চ পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আল মামুন খানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন নাদিম মোস্তফা। এখানে দলের নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মিনুপন্থি বলে পরিচিত। তিনি নাদিম মোস্তফা ও রিজভীর বিরুদ্ধে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, মিনু আর নাদিমের দ্বন্দ্বে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এ কারণে রাজশাহীতে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও জোরালোভাবে পালিত হচ্ছে না। এসব বিষয়ে মতামতের জন্য মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। উভয়ের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।