রাডার ফাঁকি দিতে নিচ দিয়ে উড়ছিল নিখোঁজ বিমানটি
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
নিখোঁজের ৯ দিন পেরিয়ে গেছে। এখনো কেবল নানা তত্ত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ার বিমানের তল্লাশি কাজ। কিন্তু বিমানটি কোথায়, কিভাবে আছে এবং ২৩৯ যাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে সেই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর এখনো মেলেনি। তবে তদন্ত চলছে খুব জোরেশোরেই। এবার মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা ধারণা করছেন রাডার ফাঁকি দিতে ৫ হাজার ফুট কিংবা তার নীচ দিয়ে উড়ছিল বিমানটি। শেষ বার্তা প্রেরণাকারী নিয়ে যে সন্দেহ ছিল সেটার আপাতত একটা সমাধান পাওয়া গেছে। বিমানের পাইলটের সহকারীই ওই বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সন্ত্রাসীরাও একাজ করতে পারে। আর এক্ষেত্রে আল-কায়েদার দিকেই সন্দেহের তীর। বিমানটি তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। খবর সিএনএন ও এনডিটিভি’র।
রাডার ফাঁকি দিতে নীচ দিয়ে উড়ে যাওয়া
মালয়েশিয়ার টাইমস পত্রিকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানটি যেই চালনা করুন না কেন তিনি রাডার ফাঁকি দিতে বিমানটিকে ৫ হাজার ফুট নীচ দিয়ে উড়িয়েছেন এবং তিনি দুই পর্বতের মাঝখান দিয়ে চালিয়েছেন। তবে এর কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অনুসন্ধানকারীরা যেখানে তদন্ত করছেন
অনুসন্ধান কার্যক্রমে ২৬টি দেশ অংশ নিয়েছে। অনুসন্ধান এলাকা এখন সমুদ্র থেকে স্থলভূমিত পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকাও হতে পারে। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের দেশের ওপর দিয়ে এধরনের কোনো বিমান যায়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতের সেনাবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের ওপর দিয়ে রাডারকে ফাঁকি দিয়ে বিমানটির উড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তদন্তে যে বিষয়টি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শনিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিমানটিকে কেউ উদ্দেশ্যপ্রোনোদিতভাবে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছেন। আর এক্ষেত্রে বিমানের পাইলট জাহারি আহমেদ শাহকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তার বাড়িতেও তল্লাশি করা হয়েছে। তবে জাহারির দীর্ঘদিনের বন্ধু পিটার চোং (৫৩) বলেন, এটা খুবই অশোভন কাজ যে জাহারিকে এই কাজে সন্দেহ করা হচেছ। কারণ তিনি এরকম কাজ কখনো করতে পারেন না। তাকে সন্দেহ করা মানে জনগনের প্রতি তার ভালবাসাকে অবজ্ঞা করা। জাহারির বাবা জানিয়েছেন, তিনি তদন্তকারীদের সম্পূর্নভাবে সহযোগিতা করবেন। কাজটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মনে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটা কেবলই ধারনা। নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিমানের গুরুত্বপণূ সব তথ্য
এ পর্যন্ত বিমানের যেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ বার্তা। বার্তাটি ছিল ‘ সব ঠিক আছে, শুভ রাত্রি’। এটা ১টা ৭ মিনিটে পাঠানো হয়েছিল। তবে বিমানটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কখন বন্ধ হয়েছিল সেই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি মনে করা হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর হওয়ার পরও কেউ কথা বলেছিল। সেই ব্যক্তিটি পাইলটের সহকারী বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিমানটি কোথায় আছে ?
বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে স্যাটেলাইট এবং রাডার থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সঠিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি এখনো। কেবল ধারণা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক বলেন, তারা এখন দক্ষিণ চীন সাগরে অনুসন্ধানকাজ বন্ধ করে বিমানটির দুটি সম্ভাব্য গতিপথ বরাবর খোঁজ নেয়া শুরু করছেন। একটি হলো কাজাখস্তান ও তুর্কিমেনিস্তানের সীমান্ত থেকে শুরু করে উত্তর থাইল্যান্ড পর্যন্ত। আর অপরটি হলো ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ দিক পর্যন্ত। এই করিডোরে পাকিস্তান, ভারত এবং আফগানিস্তান রয়েছে। এক মার্কিন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বিমানটি ভারতের দক্ষিণে পানিতে বিধ্বস্ত হতে পারে। কারণ এর চেয়ে উত্তর দিকে গেলে রাডারে ধরা পড়তো। ভারতের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, তাদের রাডারের সক্ষমতা আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের এলাকা পর্যন্ত বিসতৃত। এর বাইরে ভালভাবে নজর রাখা হয় না।
যাত্রীদের বেঁচে থাকার
কোনো সম্ভাবনা ছিল ?
এটা সম্ভব হতো যদি বিমানের সঙ্গে মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করা হতো তাহলে মনে করা হতো যে বিমানের কার্যক্ষমতা এখনো সচল আছে। মালয়েশিয়ার বিমান পরিবহনের প্রধান আজহারউদ্দিন আব্দুল রহমান বলেন, তারা ধারণা করছেন বিমানটি ছিনতাই হয়েছে। আর এটা আশা জাগিয়েছে যাত্রীদের স্বজনদের মধ্যে। তারা মনে করছেন, ছিনতাই হলে কেবল যাত্রীদের বেঁচে থাকা সম্ভব।
ভূমিতে অবতরণ করতে পারে কী ?
বিমানটি যদি ভূমিতে অবতরণ করে তাহলে সেটা তদন্তের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। যদি এই বিমানটিকে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে এটা হতে পারে, জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও ইউনিভার্সিটির বিমানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক শোয়ান প্রুসনিকি। সাবেক মার্কিন পাইলট জিম টিমলন বলেন, যে বিমানটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছেন তিনি কারো সহযোগিতা পেয়েছেন। তাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। ফলে তারা যদি কোথাও থেকে বিমানের জ্বালানি নিতে পারেন তাহলে কখনো এই তদন্তের শেষ আমরা দেখতে পাবো না।