যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ, জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও মাজারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করলো স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী। একই সঙ্গে গতকাল জাতীয় শিশু দিবসও পালিত হলো। গতকাল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দিবসটি উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই মেলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ওপর তৈরি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তত্কালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এসময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করে তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ফাতেহা পাঠ শেষে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর সেখানে শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি মাদককে না বলারও আহ্বান জানান। জাতির পিতার জন্মদিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সাম্প্রদায়িকতা ও কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক সোনার বাংলা গড়ে তোলার দুর্জয় প্রেরণা ও ইস্পাতকঠিন প্রত্যয় ছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা সারাদেশের কৃতজ্ঞ বাঙালির কণ্ঠে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে দেশব্যাপী সকল জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ সকল গণমাধ্যম বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা ও উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সপ্তাহব্যাপী পুস্তক ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথভাবে উদ্্যাপন করা হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে মানুষের ঢল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল ভোরে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জনতার ঢল নামে। সকাল ৭টার আগেই বঙ্গবন্ধু ভবনের আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিমপ্রান্তে জমায়েত হতে থাকে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জামায়াত-শিবির-রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে, মুজিবের বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি নানা শ্লোগান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী, ড. মশিউর রহমান, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত প্রবাসী আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা হয়। রাজারবাগ অভয় বিনোদিনী উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, কেককাটা ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দলের নেতা নন। তিনি সমগ্র জাতির তথা সমগ্র বিশ্বের নেতা। তিনি বলেন, মরহুম জিয়াউর রহমানকে যারা স্বাধীনতার ঘোষক বলছেন তারা জিয়াউর রহমানকে ছোট করছেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো লজ্জা পেতেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। কলাবাগানস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ডা. এস এ মালেক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী শক্তিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে মানববন্ধন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও শহীদ কাজী আরেফ ফাউন্ডেশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে টিএসসির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোয়ালিটি এডুকেশন স্কুল ও কলেজের উদ্যোগে খিলগাঁওস্থ কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভায় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কবির আহমদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, শুধু চেতনার বাণী নয়, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মূল আদর্শ ছিল দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। আমাদের সেই প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোয়ালিটি এডুকেশন কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম ফেরদাউস খানের সভাপতিত্বে সভায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহমাদ মোস্তফা, মো. রফিকুল ইসলাম ও বরকত উল্লাহ। রাজশাহী অফিস জানায়, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালিত হয়েছে। সকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের নেতারা। এরপর কেককাটা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীতে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাজশাহী ওয়াসা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিবসটি পালন করেছে। খুলনা অফিস জানায়, খুলনা জিলা স্কুল মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘বঙ্গুবন্ধুকে জানবো আদর্শবান মানুষ হবো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মত্স্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এর আগে সকাল ৮টায় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর নিউ মার্কেট হতে শুরু হয়ে খুলনা বেতারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ খুলনা বেতারে নির্মিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। দুপুরে দুঃস্থ ও ভবঘুরে শিশুদের আপ্যায়ন, বাদজোহর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতির জনকের জীবন ও আদর্শ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনা, জাতির পিতার জীবনার্দশের উপর তথ্যভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ বেতার খুলনা দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালাও প্রচার করে। আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী রচনা, চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেন। সিলেট অফিস জানায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশু কিশোর আনন্দ উত্সব ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল জহির চৌধুরী সুফিয়ান। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় সমিতি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি গৌছ আহমদ চৌধুরী। বরিশাল অফিস জানায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকাল ৯টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। সাড়ে ৯টায় বরিশাল অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন এমপি। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। এই উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বাঙালি জাতির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর জন্মদিনে তাঁর লালিত আদর্শকে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নিতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনসমূহ এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ও বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।