চট্টগ্রামে চালের বাজার অস্থির
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৩
বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। সরবরাহও প্রচুর। তবুও চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামে। চিকন, মোটা প্রতিটি চালের দাম বেড়েই চলেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরবঙ্গে ৪/৫ জন মিল মালিক চিকন চাল গুদামে মজুদ করে পুরো দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। চট্টগ্রামে বোরো ধান আসবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আবার চাল আমদানিও আগের মতো হচ্ছে না। ফলে চালের দাম বেড়েই চলেছে।
নগরীর চকবাজার ও বহদ্দারহাটে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে চিনিগুড়া প্রতি কেজি ৯০ টাকা, মিনিকেট আতপ ৪৭ টাকা, কাটারী পাইজার ৪৮ টাকা, কাটারী ভোগ ৭০ টাকা, ভারতীয় বেতী ৩৮ টাকা, জিরা শাইল সিদ্ধ ৪৮ টাকা, নাজির শাইল সিদ্ধ ৫৫ টাকা, পারী সিদ্ধ ৪২ টাকা ও সাটার পারী ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ থেকে চাল এনে থাকেন। চট্টগ্রামে আতপ চালের চাহিদা বেশি। আতপ, চিকন ও মোটা চালের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক মাস ধরে চিকন চালের দাম বেড়েই চলেছে। বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) মিনিকেট ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অর্থাত্ বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বাজারে আরো ২০০ টাকা হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছে।
চট্টগ্রামে পাহাড়তলী, চাক্তাই ও বহদ্দারহাটে তিনটি চালের পাইকারি বাজার রয়েছে। এসব বাজারে উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা চাল বিক্রি হয়। পাহাড়তলী বাজারের চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সরবরাহে কোন সংকট নেই। তারপরেও ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে মজুদদার ব্যবসায়ীরা।
মিল মালিক মো. শাকিল ইত্তেফাককে বলেন, ‘চিকন চালের এখন মৌসুম নয়। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো যায় না।’ অপর এক মিল মালিক জানান, চিকন চাল এখন আমদানি হচ্ছে না। এছাড়া মিল মালিকদের কাছ থেকে চট্টগ্রামে চাল আনতে বস্তাপ্রতি ১২০ টাকা পরিবহন খরচ পড়ে।
এদিকে আমদানিকারক নেয়াজুর রহমান জানান, চাল আমদানি তেমন হচ্ছে না। যারা ২০/৩০ হাজার টন চাল আমদানি করতো এখন ১ হাজার টনের বেশি করছে না। চট্টগ্রামে বিভিন্ন গুদামেও প্রচুর চাল মজুদ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পাহাড়তলী পাইকারী বাজারের বিক্রেতারা জানান, বোরো আসার আগ পর্যন্ত চালের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। এ প্রসঙ্গে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের শস্য উত্পাদন কর্মকর্তা আমিনুল হক চৌধুরী জানান, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বোরো কাটা শুরু হবে।