সমাবর্তনে আলোকিত
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৪, ১৮:৩৭
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি
‘সহজ সরল মানুষের দেশ বাংলাদেশ’— ওড়িয়া টানে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় বলা কথাটুকু শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শ্রোতাদের মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। বক্তা আর কেউ নন অচ্যুত সামন্ত। ‘ওড়িষ্যার বিস্ময়’ নামে খ্যাত বিশ্বনন্দিত এই মানুষটি সুদূর ভারত থেকে এসেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তনে। শুধু সামন্তই নন, অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান, উপাচার্য প্রফেসর ডঃ লুত্ফর রহমান। সমাবর্তনে অচ্যুত সামন্তকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রী প্রদান করা হয়। সমাবর্তনে বিভিন্ন অনুষদের ৩ হাজার ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া সর্বোচ্চ ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শুধু শিক্ষিত নয়, হতে হবে একজন সত্ মানুষ। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে গড়তে হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত নতুন এক বাংলাদেশ।
সমাবর্তন বক্তা অচ্যুত সামন্ত বলেন, সকল সমস্যা, সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা। শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আলোকিত করতে হবে গোটা বিশ্বকে।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা বর্ণনা করেন। এছাড়াও নতুন গ্রাজুয়েটদেরকে সংবর্ধনা জানিয়ে তাদেরকে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করার তাগিদ দেন। গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বিন মান্নান বলেন, এতদিনের যা কিছু অর্জন, যা কিছু শিখেছি, তাই নিয়ে ছড়িয়ে পড়তে চাই মানুষের মাঝে। বদলাতে চাই দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যকে। ইংরেজী বিভাগের সৈয়দ রায়হান উল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ চারটি বছর অথচ মনে হয় চোখের পলকেই কেটে গেল। খুব মিস করব এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। সবচেয়ে বেশি মিস করব শিক্ষকদের ও বন্ধুদেরকে। এখানেই তো আর থেমে থাকা নয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সফলতার স্বাক্ষর রেখে উজ্জ্বল করতে চাই দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখকে।