স্বাধীনতার গাথা

লালসবুজের বিজয়পতাকা, ঊর্ধ্বে আকাশ নীল ডানা মেলে দিয়ে উড়ছে খুশিতে সাদাসাদা গাঙচিল পূর্ব আকাশে নতুন সূর্য, সোনালি নতুন ভোর জয়বাংলার জয়োধ্বনিতে খুলে গেল সব দোর। বিজয়-বিজয়, মহাবিজয়ের উচ্ছ্বাসে কাঁপে হাওয়া; পূর্ণতা পেল দুখিবাঙালির শতজনমের চাওয়া। শাসন-শোষণে জর্জর জাতি ব্যথা জমেছিল বুকে মুঘল-পাঠান খড়গ উঁচিয়ে কণ্ঠ দিয়েছে রুখে। এলো লালমুখো ইঙ্গোবণিক; ক্রমে হয়ে ওঠে রাজা; দুশো বছরের কষাঘাতে ভেঙে গেল বাঙালির মাজা। বোন প্রীতিলতা, সূর্য, বিনয়, তিতুমীর গেল লড়ে— অবশেষে তারা চলে গেল এই দেশটাকে ভাগ করে। দুঃখের যেন শেষই হয় না, আবার দুঃখ আসে দুঃখী বাঙালি আটকিয়ে গেল পাকিস্তানের ফাঁসে। ভাষা যায় যায়, আশা যায় যায়, নিচু হয়ে যায় শির; অভয়বারতা শোনান তখন বাঙালির মহাবীর। মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে— মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে বাঙালি ছুটতে থাকে। জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য; সাহসী মুক্তিসেনা... মুক্ত না-করে স্বদেশভূমিকে ঘরে তারা ফিরবে না। নয়টি মাসের যুদ্ধের শেষে নতুন সূর্যোদয়ে— আসলো বিজয় তিরিশ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে।