‘কোল্ড স্টোরে ম্যালা ক্ষতি সব আলু বেচ্যা দিছি’

‘কোল্ড স্টোরে এবের ম্যালা ক্ষতি, আর কোল্ড স্টোর লাই। এবার সব আলু বেচ্যা দিছি। কোল্ড স্টোরে থ্যাকা নতুন নতুন আলু বাজারে বেচ্যাই বেশি লাভ।’ এভাবেই আলু নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আলু চাষি শাহজাহান মিয়া (৫০)। শাহজাহান মিয়া এবার ১৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। গতবার করেছিলেন ১৮ বিঘা। কিন্তু লাভ হয়নি। খরচ উঠেছিল কোনমতে। কিন্তু আলু চাষের কৌশল রপ্ত থাকায় কম হলেও এবারো আলু চাষ করেছেন। শাহজাহান মিয়া বলছিলেন, তিনি প্রায় প্রতিবছরই নিজের ও বর্গা নেয়া জমিতে আলু চাষ করেন। কিন্তু প্রতিবছরই ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকে না। গত মৌসুমে আলুতে বড় ধরনের ‘ধাক্কা’ খেয়েছেন। কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেছিলেন ৫শ’ মণ। মাস দু’য়েক আগে কোল্ড স্টোর থেকে সেই আলু বের করে দেয়া হয়েছে। কিছু আলু ঘরের মেঝেতে পচছে। আর কিছু আলু পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন ১৫০ টাকা বস্তা (৮৪ কেজি)। গোদাগাড়ীর মোহনপুর, গোগ্রাম, দেওপাড়া ও সদর ইউনিয়নে এবার ব্যাপকহারে আলু চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলু উত্তোলনের উপযুক্ত সময় পার হয়েছে একমাস আগেই। কিন্তু তখন আলুর বাজার খারাপ। ক্ষতির আশঙ্কায় আলু তোলেননি। গত সপ্তাহের শুরু থেকে আলুর বাজার আবার ভাল হয়েছে। এবার তারা ব্যস্ত হয়েছেন আলু তোলার কাজে। তবে এবার আর কোল্ড স্টোর নয়, সব আলু যাবে বাজারে। উপজেলার ঈদলপুর গ্রামের আলু চাষি মনিরুল ইসলাম (৪৫) জানান, তিনি এবার সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতিবিঘা আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। আর উত্পাদন অন্তত ১০০ মণ। গত এক সপ্তাহ থেকে গোদাগাড়ীতে লাল আলু প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) ৯০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আর সাদাটা প্রতিবস্তা ১শ’ টাকা কমে। তিনি জানান, সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে অন্তত সাড়ে ৭শ’ মণ আলু উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করলে তিনি কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা লাভ করবেন। একারণে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখে আর ঝুঁকি নিতে চান না। সব আলু বিক্রি করবেন বাজারে। এদিকে সিধনা গ্রামের আলু চাষি জমসেদ আলী (৪৮) জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ৩ বিঘা জমির আলু বাজারে বিক্রি করেছেন। দামও পেয়েছেন ভাল। খরচ বাদে লাভ করেছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত বছরও এই সময় আলুর বাজার ঠিক এমনই ছিল। তবে তিনি দ্বিগুণ লাভের আশায় আলু রেখেছিলেন কোল্ড স্টোরে। কিন্তু বিধি বাম। সেই আলু বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে তা দিয়ে উত্পাদন খরচই ওঠেনি জমসেদ আলীর।