সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ

এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্বের বি গ্রুপে বাংলাদেশের শক্ত প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর। এই দলটি গত বাছাইয়ের আসরে বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে ছিল ১-০ গোলে। শেষ ম্যাচে হারের কারণে বাংলাদেশকে লজ্জা পেতে হয়েছিল। বাংলাদেশ ২-০ গোলে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে একটা প্রতিশোধ নিয়ে ফেলল। সেই সাথে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমস হকির চূড়ান্ত পর্বে উঠার টিকিটটাও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল। অন্য কোনো অঘটন যদি না ঘটে তবে এটা বলা যায়, ইনচিয়ন এশিয়ান গেমস হকির চূড়ান্ত পর্বের পথে পা দিয়েই রাখলো বাংলাদেশের নিলয়, মিমো, নান্নু, শিটুল, ইরফানুল, চয়নরা। এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্বে আট দেশের মধ্যে ছয় দেশ উঠবে চূড়ান্ত পর্বে। ফেভারিট বাংলাদেশের উঠে যাওয়াটা প্রায় নিশ্চিত হলেও খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তা কিংবা হকি অনুরাগীদের ভাবনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়া। তাই এই জয় নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস নেই দলের পাকিস্তানি কোচ নভিদ আলম এবং খেলোয়াড়দের। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করেছেন কৃষ্ণ কুমার এবং পেনাল্টি কর্নার থেকে অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন; ম্যাচ জিতিয়েছেন। তবে আরো বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের আক্রমণভাগ অনেকগুলো সুযোগ নষ্ট করেছে। সিঙ্গাপুর দুই গোল হজম করেও ম্যাচে ফেরার দক্ষতা দেখিয়েছে আগের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে। সে ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছিল। বাংলাদেশেও কাল এমন ভয় ছিল না, তা নয়। কিন্তু রক্ষণভাগে অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন ভালো সামাল দিয়েছেন। তবে পেনাল্টি কর্নারে কাল চয়ন সফল হতে পারেননি। আগের ম্যাচে তিনি পেনাল্টি কর্নারে গোল করে হ্যাটট্রিক করলেও কাল ম্যাচের প্রথমার্ধে তিনবার পেনাল্টি কর্নার পেয়েও ব্যর্থ হলেন এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিষ্ট চয়ন। সিঙ্গাপুরের গোলকিপার সুরেস চয়নের তৃতীয় হিট ঠেকিয়ে দিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়। প্রথমার্ধশেষে স্কোর বোর্ড থাকলো গোল শূন্য। এ অবস্থা থেকে দর্শকের ভয় পাওয়ারই কথা; তারা মনে করেছিলেন হারের পথে যাবে চয়ন, কৃষ্ণ, মিমো, নিলয়, সাব্বির, অসিম গোপদের বাংলাদেশ। কিন্তু দর্শকদের হতাশা কাটিয়ে বাংলাদেশ গোলের দেখা পেলো ৪০ মিনিটে। কৃষ্ণ কুমার স্টিকে বল বাঁধিয়ে ঘুরে ঘুরে ঢুকে পড়লেন সিঙ্গাপুরের গোল মুখে। কৃষ্ণর অসাধারণ এই গোলে প্রথম লিড নিলো বাংলাদেশ। এর পরের সুযোগটা কৌশিক পেয়েছিল। কিন্তু বল কানেক্ট কতে পারলেন না বলে গোলটিও পেলেন না এই তরুণ। হকিতে এক গোলে এগিয়ে থাকাটা খুব ভরসার কথা নয়। কোচ নাভিদ আলম সাইড লাইন থেকে আক্রমণে যাওয়ার নিদের্শনা দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশ পেলো ম্যাচের চতুর্থ পেনাল্টি কর্নার। নান্নু, সারোয়ার চয়নের সমন্বয়ে গোল পেলেন চয়ন ২-০। পুরো ম্যাচে সিঙ্গাপুর একবার পেনাল্টি কর্নার পেলেও তারা বলটা পুশ করলেন ঠিকই তবে হিট করতে পারেনি বাংলাদেশের পোস্টে। ভালো খেলে কৃষ্ণ পেলেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। মিমো, সারোয়ার, কৃষ্ণ, নান্নুর খেলায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি কোচ। গতকাল ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘আমাদের আক্রমণভাগ শতভাগ দিতে পারেনি। না হলে ম্যাচের স্কোর লাইন হতে পারতো ৪-০। আমার বিশ্বাস ছিল জয় আসবে। মাঝে মাঝে খেলায় এমনটা হয়।’ ম্যাচ সেরা পুরস্কার পেয়ে খুশি কৃষ্ণ কুমার। তবে নিজের পুরস্কারের চেয়ে দলের জয়েই বেশি খুশি কৃষ্ণ কুমার। নিজেদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামীকাল বাংলাদেশ খেলবে ইরানের বিরুদ্ধে। গতকাল হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের গ্রুপে দিনের প্রথম ম্যাচে ইরান ২-১ গোলে হংকং চায়নাকে হারায়।