ট্রফিটার জন্য মুখিয়ে আছি

টি-টোয়েন্টি খেলাটাকে অস্ট্রেলিয়া কতো হালকাভাবে নিয়েছিল তারই প্রমাণ এই জর্জ বেইলি। জাতীয় দলে টেস্ট বা ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার আগেই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই বেইলিও এখন অনেক পরিণত হয়েছেন, অস্ট্রেলিয়াও এখন এই ফরম্যাটটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই চেষ্টা নিয়ে আরও একটা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এখনও পর্যন্ত তাদের ঝুলির বাইরে থাকা একমাত্র ট্রফিটা জয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন বলেই গতকাল উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে বললেন অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক বেইলি— আরও একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কতোটা চ্যালেঞ্জিং? কঠিন চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। তবে আমরা এটাকে যেভাবে দেখছি তা হলো, যদি আমরা গ্রুপ পর্ব পার হতে পারি বুঝতে হবে দারুণ ক্রিকেট খেলেই এসেছি। পরের ধাপগুলো তাই খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অস্ট্রেলিয়ার শক্তির জায়গাটা কী? দারুণ সব বিগ হিটার আছে আমাদের দলে। অবশ্যই সেটা আমাদের বড় একটা শক্তির জায়গা। আমাদের বোলিংও দারুণ শক্তিশালী। মিশেল জনসন ইনজুরির জন্য শেষ পর্যন্ত আসতে পারলেন না। এটা কতোটা প্রভাব ফেলবে? আমরা অবশ্য মিচকে মিস করব, কোনো সন্দেহ নেই। গত ছয় মাসে সে যা করেছে, সেটার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তবে আমরা ভাগ্যবান যে পরিবর্ত গিসেবে ডগ বলিঞ্জারের মতো একজন আছে আমাদের। ডগ প্রচুর টি-টোয়েন্টি খেলেছে, উপমহাদেশেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে অনেক। গতি আছে, সুইং করাতে পারে। টপ অর্ডারে তো আপনাকে মধুর সমস্যা সামলাতে হচ্ছে। ওয়াটসন কী ওপেন করবেন? ফিঞ্চ দলে আসার পর থেকে ওয়াট্টো তিনেই ব্যাট করছে। টপ অর্ডারে এমন জট থাকা ভালো ব্যাপার, এই জটে আমি খুশিই বলতে পারেন। ওয়ার্নার-ফিঞ্চ-ওয়াট্টো...হোয়াইটকে হয়ত মিডল অর্ডারেই নেমে আসতে হবে। টি-টোয়েন্টির তুলনায় কী আপনার খেলোয়াড়রা একটু কম তরুণ? বয়স স্রেফ একটি সংখ্যা। আমাদের দর্শন হলো সেরা দলটি বেছে নেয়া, বয়স যার যতোই হোক। আমার মনে হয় চোট বাদ দিলে সম্ভব সেরা দলটাই আমরা পেয়েছি। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই টি-টোয়েন্টি ট্রফিটা জেতা কতোটা জরুরী? এই ট্রফিটা জিততে আমরা মুখিয়ে আছি?৫০ ওভারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার যে গৌরবময় ইতিহাস, সেটার পুনরাবৃত্তি আমরা এখানেও করতে চাই। তার মানে এই নয় যে আগের আসরগুলোতে আমরা জিততে মরিয়া ছিলাম না। তবে আমরা জানি, এবার আমাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। দলটা দারুণ, ফর্মেও অছি আমরা। জেতাটা সহজ হবে না মোটেও, গ্রুপ পর্বেই এমন সব দল আছে যে প্রতিটি ম্যাচই বলতে গেলে নক আউট। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশে খেলাটা কী একটু বেশি কঠিন হবে? দলের বেশির ভাগই বাংলাদেশে খুব বেশি খেলিনি। ব্র্যাড হজের সঙ্গে কথা বলেছি, ও তো এখানে অনেক খেলেছে। দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। প্রাথমিক পর্বের যে খেলাগুলো হচ্ছে, সেসব দেখে কিছুটা আইডিয়া নিচ্ছি। দিনের চেয়ে রাতে উইকেট খানিকটা বদলে যায়। প্রস্তুতি ম্যাচে হয়ত ধারণাটা বুঝতে পারব। দেখা যাক কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব। এটাই কী অস্ট্রেলিয়ার এ যাবত্কালের সেরা টি-টোয়েন্টি দল? জানি না সব বিশ্বকাপের মধ্যে এবারই এটাই সেরা দল কিনা, তবে যে দল পেয়েছি সেটা নিয়ে আমি খুশি। দলের ব্যালান্স দারুণ। এটা বলতে পারি, আমাদের আগের যে কোনো দলের চেয়ে এই দলটা ব্যালান্সড। উপমহাদেশের কন্ডিশনে পেসাররা কেমন করবেন? উপমহাদেশের কন্ডিশনে পেসারদের জন্য গতি আর সুইং থাকটাটা জরুরী। ডগ, স্টার্ক আর কোল্টার নাইল, আমাদের তিন পেসারের গতি আছে, সুইংও করাতে পারে। অন্য বোলাররাও দারুণ। খানে একী স্থানীয় দলগুলো একটু বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে হয়? উপমহাদেশের দলগুলো বাড়তি সুবিধা পাবেই। তবে তার মানে এই নয় যে অন্যরা পিছিয়ে থাকব। আগামী ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ফেবারিট থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। চেনা কন্ডিশন অবশ্যই সুবিধা। তবে খুব বড় পার্থক্য হবে বলে মনে করি না। উপমহাদেশে ভালো স্পিন আক্রমণ তো জরুরী। সেটা কী আছে আপনাদের? হগ আছে বাহাতি লেগ স্পিনার। মুরইহেড দারুণ সম্ভাবনালগ স্পিনার। দু’জনই উইকেটশিকারী। প্রচুর ব্যাক আপ স্পিনার আছে। ম্যাক্সওয়েলকে তো এখন মূল স্পিনাই বলা যায়। ফিঞ্চ বাহাতি স্পিন করতে পার, হজ-হোয়াইট আছে। বিকল্পের অভাব নেই। ঠিক কী করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে ট্রফিটা জিততে গেলে? ধারাবাহিক হতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে মোমেন্টম পাওয়াটা খুব কঠিন। দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো দেখবেন বেশির ভাগই ড্র হয়। কোনো দল এক ম্যাচ জিতলের পরের ম্যাচই হারে। তো মোমেন্টামটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুই সপ্তাহ ধরে রাখতে হবে।