সব হারিয়ে খালেদা জিয়া এখন উপজেলায়
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৫০
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে না এসে সবকিছু হারিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন উপজেলা নির্বাচনে এসেছেন। তিনি মাছ খান না, তবে মাছের ঝোল খান। তিনি ঘরে বসে ছিনতাইকারী, মাদকাসক্ত ও কিলারদের ভাড়া করে মাঠে নামিয়ে বোমা মেরে, পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, চেয়েছিলেন সন্দেশের ওপর কিছমিছ হয়ে বসতে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন দেশের জনগণ নস্যাত্ করে দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত এখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ অপশক্তিকে কঠোরহস্তে দমন করতে না পারলে দেশে প্রকৃত শান্তি আসবে না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। অগণতান্ত্রিক শক্তি এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর সেই অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় ক্যান্টনমেন্টে একজন জেনারেলের পকেট থেকে জন্ম হয়েছিল বিএনপির। তাই বিএনপি কখনোই গণতান্ত্রিক দল নয়।
তিনি বলেন, দাওয়াত দিয়ে এনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। কিছুদিন আগে ওআইসির মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাতের কর্মসূচি বাতিল করেন। তাহলে কি তিনি অ্যাপয়েনমেন্ট বাতিলের কোম্পানি খুলে বসেছেন? একসময় চিফ মার্শাল ল’কে আমরা বলতাম সিএমএলএ বা ক্যান্সেল মাই লাস্ট অ্যাপয়েনমেন্ট। এখন আমরা একজন লেডি সিএমএলএ পেয়েছি, যিনি শুধু অ্যাপয়েনমেন্ট বাতিল করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, শত সমালোচনা, লোকলজ্জা সবকিছুকে উপেক্ষা করে বিএনপি নেত্রী জামায়াত ও হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্ক না ছাড়ার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্প। জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো রাখঢাক রাখেননি, একমন-একপ্রাণ হয়ে তিনি দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনই সরকার পরিবর্তনের একমাত্র সাংবিধানিক পথ। অথচ নির্বাচনে না এসে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। খালেদা জিয়ার মেহমান হেফাজতিরা মেয়েদের অশিক্ষিত ঘরে বন্দী রাখার ফতোয়া দেন। আগামীতে সংবিধান ও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসবেন, এটাই জাতির প্রত্যাশা। অস্ত্র, দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতি নতুন প্রজন্ম দেখতে চায় না, তারা চায় উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতি।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, একজনের ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে। দেশ আজ সকল ক্ষেত্রে অভাবিত উন্নয়ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলামের একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে আল গোর সেদেশের ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়ে জনগণের সমর্থন পাওয়া আল গোর রাষ্ট্রপতি হতে পারেননি। এতে কী জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়েছে? আসলে তাদের দেশের ব্যাপারে এক নীতি, আমাদের দেশের বেলায় অন্য নীতি নিয়েই কথা বলেন এসব কূটনীতিক।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের আপন ভাই হচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন শিবির। আর এই দুই সংগঠনের জননী হচ্ছেন খালেদা জিয়া। আরব লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সাধুবাদ ও প্রশংসা করছে, আর দেশে কিছু কুলাঙ্গার এর বিরোধিতা করছে!
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কারণে
উন্নয়ন তছনছ হয়ে যাচ্ছে
বর্তমান সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র সড়ক ও জনপথ বিভাগেই বিসর্জন হয়ে যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথে কাজ করার নামে শত শত কোটি টাকা লুট করা হচ্ছে। বিভিন্ন পত্রিকায় এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল সংসদে মাগরিবের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন জাসদের সংসদ সদস্য মাইনুদ্দিন খান বাদল। তিনি বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন সড়ক ও জনপথ বিভাগ তছনছ করে দিচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছেন তারা রাষ্ট্রের সঙ্গে অপরাধ করছেন। তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও করেন জাসদের এ সাংসদ। সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই অনতিবিলম্বে নতুন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদকে অবহিত করেন তিনি। পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনি কার্য প্রনালী বিধি অনুযায়ী বিষয়টি সংসদে আনেননি। তাই সংসদ এ বিষয়ে কোনো সিন্ধান্ত নিতে পারে না।