দেশ দুটির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে পরিচালিত এক জরিপের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের মতামত যাচাই করার চেষ্টা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই জরিপের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে অধিকাংশ মার্কিনি ধারণা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ আসন্ন।
১৭ থেকে ২০ মের মধ্যে হাজারেরও বেশি লোককে নিয়ে করা এই জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নিরাপত্তা হুমকি এমন ভাবনায় উদ্বিগ্ন মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ইরানি সামরিক বাহিনীর ওপর আগ বাড়িয়ে হামলার বিষয়ে তাদের অধিকাংশেরই সমর্থন নেই।
কিন্তু যদি ইরান মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর প্রথম আঘাত হানে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো অথবা সীমিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জবাব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জন। প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প ছয় বিশ্বশক্তি ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ফের বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-তে ট্রাম্প তার ইরানবিরোধী অবস্থান আরো জোরদার করে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর সব নিষেধাজ্ঞা ফের পুনর্বহাল করার পর উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়।
সম্ভবত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ও পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বোমারু বিমান মোতায়েনের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন জরিপে তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন প্রায় ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক; এদের মধ্যে ৩১ শতাংশ জোরালোভাবে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে ৩৯ শতাংশ ট্রাম্পের নীতি অনুমোদন করেছেন।
৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বাধবে। উদার ও রক্ষণশীল, উভয় ধরনের নাগরিকরাই ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখেন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বলে মনে করেন। ইরানকে ‘গুরুতর’ বা ‘আসন্ন’ হুমকি বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ নাগরিক। অপরদিকে তাদের ৫৮ শতাংশ উত্তর কোরিয়াকে ও ৫১ শতাংশ রাশিয়াকে হুমকি বলে মনে করেন।