মির্জাপুরে দখল-দূষণে খাল নদী হাটবাজার

মির্জাপুরে উপজেলা সদরে দখল আর দূষণের কবলে সরকারি খাল, নদী ও হাটবাজার। এতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। সেইসঙ্গে সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি প্রভাবশালী মহল দখল করে পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামে বেনামে সরকারি এসব সম্পত্তি রাতারাতি দখল হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। গতকাল বুধবার উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরকারি সম্পত্তি দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা বারাই খাল এবং বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদীর মালিক সরকার। এসব সম্পত্তি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। কালের বিবর্তনে বারই খাল ও বংশাই নদী খিন (ভরাট হলে) হয়ে আসলে স্থানীয় একটি চক্র সরকারি এসব সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতায় নামেন। খাল ও নদীর আশপাশ এবং বুক ভরাট করে পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে চলেছে। যে যার মতো পারছেন সেভাবেই দখল করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা সদরের প্রফেসরপাড়া, বাইমহাটি, বাওয়ারকুমারজানি, মির্জাপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন, বাইমহাটি কেন্দ্রীয় গোরস্তান সংলগ্ন, বংশাই রোড, মির্জাপুর বাইপাস রোড, গাড়াইল, পুষ্টকামুরি, কাঁচাবাজারসহ অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এসব সরকারি সম্পত্তির মূল্য প্রায় কয়েকশ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৮-১০ জন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, দখলবাজ এসব ভূমিদস্যু পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী ও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে। এসব ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। তারপর রাতারাতি ময়লা আবর্জনার উপর মাটি ফেলে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি গড়ে তুলছেন। অনেকেই চার-পাঁচতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, সরকারি নদী ও খালসহ কোনো সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো (উচ্ছেদ করা হবে) ভেঙে ফেলা হবে।