বছরে তিন লাখ শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৭
দেশে প্রতি বছর তিন লাখ শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে, যার মধ্যে মাত্র অর্ধেককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। মাঠ পর্যায়ে যক্ষ্মাকে কার্যকরভাবে নির্মূল করতে ‘সেলফ হেলপ কমিটি’ গঠনের সুপারিশের পাশাপাশি গ্লোবাল ফান্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং তা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গ্লোবাল ফান্ডের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ সব কথা বলেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নিউ এজ ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বর্তমান সাফল্য ধরে রাখা গেলে ২০১৫ সালে নির্ধারিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এ সাফল্য আরো এগিয়ে নিতে গ্লোবাল ফান্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, ২০১৫ সালের পরও এই তহবিল অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, শহর অঞ্চলের যক্ষ্মা রোগীরা অধিকাংশ ভাসমান বলে তাদের চিকিত্সা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে শহরের যক্ষ্মারোগ নিয়ন্ত্রণে একটি আলাদা কৌশল প্রণয়নের ওপর জোর দেন তারা। তাছাড়া যক্ষ্মা শনাক্তকরণ সহজতর করতে ‘জিন এক্সপার্ট’ যন্ত্র সহজলভ্য করার ওপরও জোর দিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ‘ডট্স’ যক্ষ্মা চিকিত্সার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যা প্রয়োগ করে বাংলাদেশে যক্ষ্মা নিরাময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা গেছে। তবে তারা উল্লেখ করেন বর্তমানে সরকার এ বিষয়ে একটি জরিপ চালাচ্ছে যা ২০১৫ সালে শেষ হবে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যক্ষ্মা পরিস্থিতির আরো বিশ্বস্ত চিত্র পাওয়া যাবে। এছাড়া তারা অতি দরিদ্র, অভিবাসী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে যক্ষ্মা চিকিত্সার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান।
নিউ এজের ডেপুটি এডিটর মীর আশফাকুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজেশ আলী খান, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএ হামিদসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞবৃন্দ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কনসালটেন্ট ডা. মো. মজিবুর রহমান। মূল প্রবন্ধে বিশ্বের সর্বাধিক যক্ষ্মায় আক্রান্ত ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি লাখে ৪৫ জন যক্ষ্মারোগে মারা গেছেন। এ সময়ে নতুন ও পুরাতন যক্ষ্মা রোগী মিলে প্রতি লাখে ৪৩৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।