নুরজাহানের আলোয় আলোকিত হচ্ছেন নারীরা

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

নুরজাহানের হাতের আলোয় আলোকিত হচ্ছেন নিকলীর দৌলতপুর গ্রামের অনেক নারী।

নিকলী সদর থেকে দক্ষিণে ১০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম গুরুই ইউনিয়নের দৌলতপুর। সাত বছর আগেও ওই গ্রামের অনেক পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। এখন দিন বদলেছে। সেই সঙ্গে ঘুচছে দৌলতপুরের অনেক পরিবারের দৈন্যদশা। যার হাত ধরে এই পরিবর্তনের সূচনা, তিনি নুরজাহান আক্তার (৪০)। শাড়িতে নকশা তোলার হাতের ‘কারচুপির’ কাজ শিখে নিজে যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি গ্রামের অনেক পরিবারের অসহায় ও দরিদ্র নারীকে এই কাজ শিখিয়ে তাদের আর্থিক উপার্জনের পথ দেখিয়েছেন নুরজাহান। রঙিন শাড়িতে কাজ করে এখন তারা রঙিন স্বপ্ন দেখার সাহস করেন। ঈদের সময় ওই হাতের কাজ করা শাড়ির সিজন। তাই কাজের চাপ থাকে বেশি, কারিগরদের ব্যস্ততাও বেশি। এখন দৌলতপুর গ্রামে গেলে দেখা যাবে- বেশির ভাগ পরিবারের নারী ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাড়ির উঠানে বসে জর্জেট কাপড়ে জরি, চুমকি ও পুঁতি দিয়ে নিপুণ হাতে কাজ করে একটি সাধারণ শাড়িকে কীভাবে অসাধারণ করে তুলছেন।

নুরজাহান আক্তার বলেন, হাতের কাজ শেখার পর সংসারে বাড়তি আয় শুরু হলো। এখন আর অভাব নেই। দুই মেয়ে পড়ে দশম শ্রেণিতে। আর এক  ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। নিজে লেখাপড়া জানি না। তাই সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, কাজের টাকা জমিয়ে গত চার বছর আগে স্বামী হবি মিয়াকে তিন লাখ টাকা খরচ করে দুবাই পাঠাইছি। আমি যাদের কাজ শিখিয়েছি তাদের কারোর কাছ থেকে কোনো টাকা নেই না।

গুরুই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের বলেন, তার ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের নারীরা শাড়িতে কারচুপির কাজ করে একে গ্রামীণ শিল্পে পরিণত করেছেন। গ্রামের অশিক্ষিত ও দরিদ্র, স্বামী পরিক্ত্যতা মেয়েরা সম্পৃক্ত হয়ে অলস সময় বসে না থেকে শাড়িতে কারচুপির কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অন্যদিকে অনেকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করায় দিন দিন ওই কাজের প্রসার ঘটছে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার বলেন, গ্রামের নারীরা শাড়িতে হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে শুনে কয়েক দিন আগে গ্রামটি ঘুরে এসেছি। সত্যি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না যে আমাদের দেশের গ্রামের নারীদের হস্তশিল্প এতো সুন্দর। এ কাজ করে তারা সংসারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়াও শেখাচ্ছে। এ কাজে প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন থেকে যে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।