সাঙ্গা-মাহেলা অকৃতজ্ঞ ও নীতিহীন!
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০৭
প্রধান নির্বাচক হিসেবে দফায় দফায় সনথ জয়াসুরিয়া দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হয়ে বোর্ডের সঙ্গে দেনদরবার করেছেন। এবার সেই জয়াসুরিয়াই খেপে গেছেন জাতীয় দলের দুই কিংবদন্তিতূল্য সিনিয়র মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার ওপর। তাকে বা বোর্ডকে একদমই না জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজেদের টি-টোয়েন্টি অবসরের ঘোষণা দেয়ায় নিজেকে অপমানিত বলে মনে করছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান গ্রেট জয়াসুরিয়া। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন, এই যে কাজটা জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা করেছেন, তা ঘোর অনৈতিক ও অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ!
জয়াসুরিয়ার এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া সরাসরি সাঙ্গাকারা বা জয়াবর্ধনে কেউই দেননি। তবে জয়াবর্ধনে শুধু টুইট করেছে বলেছেন, তাদের অবসর নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কান পত্রিকা সানডে আইল্যান্ডকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে কুমার সাঙ্গাকারা প্রথম জানান যে, এই বিশ্বকাপের পর আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন না তিনি। এর একদিন পরই ঢাকায় পা রেখে টুইটারে একই ঘোষণা দেন সাঙ্গাকারার বন্ধু, আরেক গ্রেট জয়াবর্ধনে।
সাধারণত এসব ঘোষণা প্রধান নির্বাচক মারফত বোর্ডকে জানিয়ে বা শুধু নির্বাচক কমিটির সঙ্গে আলাপ করেই তারপর দেন ক্রিকেটাররা। আর এই রীতি ভাঙায় ক্রিকেটারদের ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ হিসেবে অত্যন্ত অপমানিত হয়েছেন জয়াসুরিয়া। তেমনই বলেছেন তিনি ডেইলি মিররকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে, ‘আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি সবসময় ওদের সঙ্গে স্বচ্ছ একটা সম্পর্ক রাখি। এমনকি ওরা বিশ্রামে থাকলেও আমি ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি, কেমন আছে, কী করছে। আমি কখনোই ওদের সঙ্গে কোনো বিতর্ক তৈরি করিনি। অথচ ওরা আমাকে এটা জানানোরই প্রয়োজন মনে করলো না!’
সাবেক মারকুটে এই ব্যাটসম্যান বলছেন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচক হিসেবে এই দুই সিনিয়রের সঙ্গে যেভাবে তিনি মিশেছেন, যে সম্মান দিয়েছেন; তাতে তিনিও এটুকু সম্মান আশা করতে পারতেন, ‘আমি যখন নির্বাচক হলাম, তখনই অনেক অনুমান, গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমি এই করবো, ওই করবো। কিন্তু সেরকম কিচ্ছু করিনি আমি। বরং সবসময় সিনিয়রদের একটু ভিন্নভাবে সামলানোর চেষ্টা করেছি। নির্বাচক কমিটির একজন হিসেবে যে সম্মান দেয়া উাচিত, তাই দিয়েছি।’
তার বিপরীতে সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে যেটা করেছেন, তাতে ঘোরতর অনৈতিকও বলছেন জয়াসুরিয়া। শুধু তাই নয়, তারা নিজেদের অকৃতজ্ঞ বলেও প্রমাণ করেছেন বলে তার দাবি, ‘এটা তো সাধারণ একটা ভদ্রতার ব্যাপার যে, আপনি নির্বাচকদের আগে ব্যাপারটা জানাবেন। কারণ আমাদেরকেই তো শ্রীলঙ্কার পরবর্তী দল তৈরি করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা অবসরের ঘোষণা দেয়ার আগে নির্বাচকদের সঙ্গে আলাপ করে নেন। সেটা না করে তারা প্রমাণ করেছে, দেশের হয়ে খেলে তারা যে সম্মান পেয়েছে, তার প্রতি তারা কতোটা অকৃতজ্ঞ’!
অনেকে অবশ্য সাঙ্গা-জয়ার এই অবসরকে বোর্ডের সঙ্গে চলমান সিনিয়রদের বিবাদের অংশ হিসেবে দেখছেন। এমনকি এ দফায়ও সফল মধ্যস্থতা করতে না পারায়ই তারা জয়াসুরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি বলে অনুমান আছে। কিন্তু এ প্রসঙ্গ বিরক্তি নিয়ে উড়িয়ে দিলেন জয়াসুরিয়া, ‘সে যে ইস্যুই তাদের বোর্ডের সঙ্গে থাক না কেন, তার সঙ্গে এর সম্পর্কটা কী! আমি এটার মধ্যে ওই ইস্যু টানতে চাই না। আমি বুঝি, নির্বাচক কমিটির সঙ্গে তো তাদের কোনো ঝামেলা ছিল না। অন্য কোনো সমস্যা থাকলেও আলোচনা করতে পারতো।’
এমনকি জয়াসুরিয়া এও বলেছেন যে, এখন হয়তো জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা বলবেন যে, তারা নির্বাচক কমিটিকে বলেছেন আগে। সেটা যে সত্যি নয়, তা বারবার বলে দিলেন তিনি।
এইসব কথাবার্তা আর যাই হোক এটা অন্তত পরিষ্কার যে, এক ভয়াবহ সংকটের দিকেই ভেতরে ভেতরে এগোচ্ছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট। তারই প্রমাণ এই ছোট-বড় বিস্ফোরণগুলো।