এমন শিশির কখনো দেখেননি আল আমিন!

শীতকালে ঘাসের ওপরে জমে ওঠা শিশির দেখে কবিদের মনে ভাবের উদয় হতে পারে; কিন্তু ওই শিশিরই বোলারদের জন্য কতোটা যন্ত্রণার, তা যারা ক্রিকেট খেলেননি তাদের পক্ষে বোঝা কঠিন। আরো ভালো করে বললে, ফ্লাড লাইটের নিচে রাতে বল করার অভিজ্ঞতা না থাকলে অভিনব এই যন্ত্রণাটা অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। সে হিসেবে আল আমিনেরও এই শিশির-যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। জাতীয় দলে আসার আগে হাতে-কলমে এই ব্যাপারটা খুব একটা দেখেননি। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টের পেলেন, ব্যাপারটা কতো ভয়াবহ হতে পারে। নিজেই ম্যাচশেষে বলেছেন, ‘এমন ভয়াবহ শিশির আমার জীবনেও দেখিনি।’ তবে শেষ পর্যন্ত শিশিরের সঙ্গে সে লড়াইয়ে আল আমিন ঠিকই জিতেছেন। প্রথম ওভারে তিনটি বলই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওয়াইড করে ফেলার পর নিজেই সিদ্ধান্ত নেন- ফিরে আসতে হবে। যে কোনো মূল্যে ফিরে আসতে হবে তাকে। আর এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ফল হিসেবে প্রথম ওভারেই ৮ রান দিয়ে আল আমিন পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২টি উইকেট; সে দুইটি উইকেটও আবার একই ওভারে। এই ফেরা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আল আমিন বলছিলেন, ‘প্রথম ওভার থেকেই শিশিরের জন্য বল নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হচ্ছিল। ওভার শেষ করে আমি ভাবছিলাম, বাকি তিন ওভারে যে কোনোভাবে এই ভুল শুধরে নিতে হবে। উইকেটে ঘাস আছে, আমাকে সেটা কাজে লাগাতেই হবে। আসলে এটা খুব জরুরি ছিল। আমার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ এটা, টি-টোয়েন্টিতে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ। এখনই যদি এতো খারাপ বল করে ছিটকে যাই! আমাকে এটা ঠিক করতেই হবে। আমি সেই কামব্যাকের চেষ্টা চালিয়ে গেছি। বলা যায়, ভালোই করেছি।’ প্রথম ওভারটাও যে তিনি খুব খারাপ করেছেন, তা আল আমিন বলছেন না। আসলে তিনি শিশিরের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সে প্রসঙ্গেই বলছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বেশ কয়েকটা ওয়াইড ডেলিভারি দিয়েছি। তবে আসলেই আমি আমার জীবনে এতো শিশির দেখিনি কখনো। দ্বিতীয় ডেলিভারিটা করার সময় সিমে তাকিয়ে দেখি, পুরো ভিজে গেছে। ওই সময় ক্রস সিমে বল করেছিলাম। পরে সেটা ঠিক করে সিমেই বল করেছি, ওটাই ঠিক ছিল।’ এই শিশিরের যন্ত্রণা তার চেয়ে স্পিনারদের যে বেশি, সেটাও বেশ বুঝতে পেরেছেন আল আমিন। তাতে যে দলও বেশ ভুগেছে, সে জন্য আফসোস আছে আল আমিনের, ‘সাকিব ভাই ও রাজ ভাই আমাদের দারুণ শুরু এনে দেয় সবসময়। মিডল ওভারেও ওনারা দারুণ বল করে। সেটা না হওয়াতে আমরা ওদের দ্রুত আটকে দিতে পারিনি।’ শেষ পর্যন্ত এই আফসোসও আর থাকেনি আল আমিনের। এমন জয়ের পর আর আফসোস শব্দটাই তো অভিধানে থাকার কথা নয়।