রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি শেষ আটে
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০৯
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে জার্মানীর শালকেকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জায়গা করে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। অপরদিকে প্রতিযোগিতার শেষ আটে এক বছরের অনুপস্থিতির পর ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলো চেলসি।
কোচ হোসে মরিনহোর চেলসি নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে প্রথমার্ধে স্যামুয়েল ইতো এবং গ্যারি কাহিলের গোলে তুরস্কের দল গালাতাসারেকে ২-০ গোলে হারায়। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করে শেষ আটে পৌঁছালো ইংলিশ ক্লাবটি। প্রিমিয়ার লিগের অপর দুই ক্লাব আর্সেনাল এবং ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়েছে।
কার্লো আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব শালকেকে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তোলার সুযোগ দেয়নি। রোনালদোর গোল দুটিতে ৩-১ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৯-২ ব্যবধান গড়ে শুধুমাত্র শেষ আটই নিশ্চিত করেনি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। রিয়াল প্রথম লেগে ৬-১ গোলে শালকেকে বিধ্বস্ত করেছিল। এই নিয়ে টানা ৩১টি ম্যাচে অপরাজিত থাকলো রিয়াল।
গেল বছর ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরটির কোয়ার্টার ফাইনালে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের কোন ক্লাব পৌঁছাতে পারেনি। গত সপ্তাহে আর্সেনাল ও সিটির বিদায়ের পর এখন চেলসি সেই ঝান্ডা ওড়ালো। অবশ্য গতকাল বুধবার রাতে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড নিজেদের মাঠে গ্রীসের অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে প্রথম লেগের দুই শূন্য গোলের হারটি কাটিয়ে উঠতে পারলে রেড ডেভিলসরাও শেষ আটে নাম লেখাবে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও প্যারিস সেন জার্মেই গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে রাখে। আগামীকাল শুক্রবার শেষ আটের ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসির সাবেক খেলোয়াড় দিদিয়ের দ্রগবার উপরই সকলের দৃষ্টি ছিল। তাকে পুরনো মাঠে আবার দেখতে পেয়ে চেলসি সমর্থকরাও ছিল উচ্ছ্বসিত। কেননা এখনো এই মাঠে তাকে নায়ক মনে করা হয়। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আইভরিয়ান স্ট্রাইকারটির পেনাল্টিতেই বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি। সেই স্মৃতি এখনো সমর্থকদের মনে উজ্জ্বল।
ইস্তাম্বুলে গত মাসে ১-১ ড্র করলেও চেলসি বিপক্ষের মাঠে গোলের সুবাদে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। তাই খানিকটা নির্ভার হয়েই মাঠে নামা চেলসিকে ম্যাচ শুরুর চার মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে দেন ইতো। গালাতাসারের অফসাইড ট্র্যাপকে ফাঁকি দিয়ে ক্যামেরুনের এই স্ট্রাইকার শক্তিশালী শটে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করেন। এই নিয়ে ইতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ক্যারিয়ারের ৩০তম গোল করলেন। সে তুলনায় দ্রগবাসহ গালাতাসারের খেলোয়াড়রা ছিলেন নিষ্প্রভ। ।
কর্ণার থেকে টেরির হেড মুসলেরা রক্ষা করলেও ফিরতি বলে কাহিল বিরতির তিন মিনিট আগে দ্বিতীয় গোল করেন। তাতে কোচ রবার্তো মানচিনির দল আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি। বিরতির পর অবশ্য মানচিনি খেলোয়াড় বদলিয়ে রক্ষণভাগ নতুন করে সাজালেও ২০১২ সালের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আর পেরে উঠেনি।
রিয়াল অবশ্য প্রথম লেগে ৬-১ গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে মাঠে নামে। বার্সেলোনার বিপক্ষে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিকে সামনে রেখে কারো কারো ধারণা ছিল হয়তবা পর্তুগীজ স্ট্রাইকারটিকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। বাস্তবে তা হয়নি। বরং গ্যারেথ বেল মূল একাদশে ছিলেন না। কিন্তু আট মিনিটের মধ্যেই জেসে রডরিগুয়েজ হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়লে ওয়েলশ তারকাটিকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন অ্যানচেলত্তি।
স্বাগতিকদের ২১ মিনিটে এগিয়ে দেন রোনালদো। বেলের জোগান থেকে বল পেয়ে স্পানিশ জায়ান্টরা এগিয়ে গেলেও ৩১ মিনিটে শালকের পক্ষে সমতা ফেরান হুগল্যান্ড। ৭৪ মিনিটে রোনালদো দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করলে রিয়ালের জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই নিয়ে সাত ম্যাচে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারটির গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১৩। মিনিটখানেক পরেই আলভারো মোরাতা তৃতীয় গোল করলে রিয়ালের জয় নিশ্চিত হয়।
বাসস/এএফপি