মিলন হবে কতদিনে আমার মনের মানুষের সনে

‘মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে...।’ আগামী পহেলা কার্তিক ১৬ অক্টোবর, ফকির লালন সাঁইজির ১২৪ তম তিরোধান দিবসের উত্সবে আবারও মিলিত হবার আশা বুকে বেঁধে সাঁইজির ধাম ত্যাগ করতে শুরু করেছেন লালন ভক্তরা। গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন দোল উত্সব। উত্সবের শেষদিনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার সাধু-ভক্ত-অনুসারী লালনের প্রাণ মাতানো, জীবন জাগানিয়া গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন দর্শক-শ্রোতাকে। এবার উত্সবে দর্শনার্থীর ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন দোল উত্সবে। ১৫ মার্চ থেকে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া লালন আখড়ায় অনুষ্ঠিত হলো পাঁচ দিনব্যাপী লালন দোল উত্সব। উত্সব শেষ হলেও দূর-দূরান্তের কিছু সাধু সাঁইজির ধামে আরো কয়েকদিন ভক্তি প্রদর্শন করবেন। উত্সব চলাকালে আখড়াবাড়ির মূল আঙিনার সামনে মরা কালী নদীর তীরে স্থায়ী ‘লালন শাহ মঞ্চে’ প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয়েছে লালন সংগীত। লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রেজানুর রহমান খান চৌধুরী মুকুল বলেন, এ বছর মেলায় লোক আগমন কয়েক বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যেসব রাস্তা ছেঁউড়িয়ায় এসে মিশেছে, প্রতিদিন তার সবক’টিতেই নেমেছিল মানুষের ঢল। সব বয়সের নারী-পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় আখড়াবাড়ি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত সাধুরা সব সময় লালন শাহ’র ধামে ধ্যানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। প্রতিদিন খুব সকালে সাঁইজির দরবারে বিশেষ শ্রদ্ধাভরে ভক্তি পর্ব শেষে তারা চাল-জল নিয়ে স্নান করছেন পার্শ্ববর্তী কালী নদীতে। এরপর সেরে নিয়েছেন বাল্য সেবা (সকালের নাস্তা)। পাশাপাশি ভক্তদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আস্তানায় আসনে বসে সাঁইজির গান গেয়ে আরাধনায় ব্যস্ত থেকেছেন তারা। আগত ভক্ত-সাধু বাউলের হাতে ছিলো একতারা, দোতারা, ঢোল, খোল, বাঁশি, প্রেমজুড়ি, চাকতি, খমকসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র। গলা খুলে সাঁইজির মাজার চত্বরে গেয়েছেন লালনের গান। বাউলের দরদভরা কণ্ঠে গান শুনতে জড়ো হন উত্সুক হাজারো জনতা। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির ধামে প্রতিবছর দুটি উত্সব উদযাপন হয়। একটি মার্চ মাসে দোল উত্সব অপরটি ১৬ অক্টোবর, পহেলা কার্তিক ফকির লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস। দু’টি উত্সবই ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।