ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েই চলেছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় গত বছরের এপ্রিল মাসে মাথায় আঘাত পেয়ে রেলওয়ের এক কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটেছে। সম্প্রতি খুলনা হতে ঈশ্বরদী জংশন এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম হতে টাঙ্গাইল স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে। চলন্ত ট্রেনে পাথর ছাড়াও আবর্জনা ও মলমূত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে অহরহ।
রেল সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল চিলাহাটীমুখী রূপসা ট্রেন বিরামপুর হতে ফুলবাড়ী স্টেশনে পৌঁছানোর সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের খাবার গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পাথর ভেতরে ঢুকে এক যাত্রীর পায়ে আঘাত লাগে। এই ঘটনায় ট্রেনের যাত্রী রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিত্সক রাজিবুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালুর পর গত ২ মে পর্যন্ত পরপর তিনবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে যায়।
পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় শিকদার বায়োজিদ নামের বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের পরিবহন পরিদর্শক (ট্রান্সপোর্টেশন ইন্সপেক্টর বা টিআই) গত বছরের ৩০ এপ্রিল গুরুতর আহত হন। হেলিকপ্টারে করে তাকে চিকিত্সার জন্য প্রথমে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ও পরে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় মাসখানেক পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রেলওয়ে (জিআরপি) থানায় মামলা হয়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সম্প্রতি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের সাথে সাথে মলমূত্র ও ময়লা-আবর্জনাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। বাবা-মায়ের সুশাসন বঞ্চিত ও সামাজিক শিক্ষার অভাবে বিপথগামী উঠতি বয়সী তরুণ ও শিশুরা এই অপকর্মের সাথে জড়িত বলে তিনি জানান। জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের পাকশী জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে রেলওয়ে পুলিশ জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। পাথর নিক্ষেপ করলে কি ধরনের শাস্তি হতে পারে এ বিষয়টি পুলিশের পক্ষ হতে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।