বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান মেলেনি

বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের সন্ধান এখন পর্যন্ত মেলেনি। বিমানটির সন্ধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০টি জাহাজ গত ছয় দিন বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান চালিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলবে। অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পর্কে নৌ-বাহিনীর সদর দপ্তরে গতকাল বুধবার এক প্রেসব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বঙ্গোপসাগরে সার্চ অপারেশনের বিস্তারিত তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর ১৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ফ্রিগেট ওমর ফারুক নিখোঁজ বিমানের খোঁজে অনুসন্ধান শুরু করে। পরদিন নৌ-বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বঙ্গবন্ধু ও দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ওই অনুসন্ধানে যোগ দেয়। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় নৌবাহিনীর দুটি ফ্রিগেট ও দুটি মেরিটাইম এয়ারক্রাফটের সমন্বয়ে অনুসন্ধান কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার বিএনএস ওমর ফারুকের পরিবর্তে নৌ-বাহিনীর সর্ববৃহত্ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ ‘সমুদ্র জয়’ অনুসন্ধানে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নৌ-বাহিনীর এই অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিজস্ব এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ৮ ভাগে বিভক্ত করে নিখোঁজ বিমানের সম্ভাব্য গতিপথ বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল থেকে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ৬টি ভাগে অনুসন্ধান কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ৮৭ হাজার ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা অনুসন্ধান কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী এমএইচ ৩৭০ (বোয়িং ৭৭৭) বিমানটি ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর থেকে যাত্রা করে। স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বন্ধুপ্রতিম মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সম্মান দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার এই অনুসন্ধান কাজে অংশ নেয়। অপরদিকে বিভিন্ন মিডিয়াও বঙ্গোপসাগরে বিমানটি ধ্বংস হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মালয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূতও গতকাল বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রধান ফরিদ হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে নিখোঁজ বিমান অনুসন্ধান কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীর প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন নৌ অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক কমোডর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম ও নৌ গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক কমোডর এম রাশেদ আলী। উপস্থিত ছিলেন সহকারী নৌ-বাহিনীর প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল এএমএমএম আওরঙ্গজেব চৌধুরীসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।