জঙ্গি ছিনতাইয়ের হোতা ফারুক এখন আমীর

বিদেশে আত্মগোপনে থাকা জামা-য়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আমীর সোহেল মাহফুজের স্থান নিয়েছে জেএমবি’র শূরা সদস্য আনোয়ার হোসেন ফারুক। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন আনোয়ার হোসেন ফারুক। জঙ্গি ছিনতাই কার্যক্রম সফল হওয়ার পর গোপন বৈঠকে জেএমবি’র এ সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, জেএমবি’র দুর্ধর্ষ ক্যাডার আনোয়ার হোসেন ফারুককে র্যাব খুঁজছে। এর আগে ফারুক র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল, জামিনে মুক্তি পেয়ে ফারুক আত্মগোপন করেছে। ত্রিশালে ছিনিয়ে নেয়া তিন জঙ্গির একজন সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনের হাত ধরে ফারুকের জঙ্গিজীবন শুরু। এরপর জেএমবির শূরা সদস্য মনোনীত হন। ২০০৭ সালে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত সে জেএমবির ক্যাশিয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছরের জেল জীবন শেষে ২০১২ সালে ছয় মাসের জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনসহ তিন শীর্ষ জেএমবি নেতাকে যে কোন মূল্যে কারামুক্ত করার প্রতিজ্ঞা করে আসেন। এরই ধারবাহিকতায় গত মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, ফারুক নিজেকে জেএমবির আমীর দাবি করেছে বলে র্যাবের তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার পরিকল্পনাতেই ত্রিশালের জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেয়া হয়। ফারুকই তার বাহিনীকে নেতৃত্ব দেয়। র্যাব জানায়, ২০০৭ সালের ১০ জুলাই মিরপুরের নিউ সি ব্লকের একটি বাসায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ১৬১ ধারায় একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। ঐ প্রতিবেদনে ফারুক উল্লেখ করেন, ২০০০ সালে ময়মনসিংহ কৃষ্টপুর আলীয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে স্থানীয় কাতলা সেল কাদেরিয়া মাদ্রাসায় আলেম ভর্তি হন। এসময় মাকসুর নামে এক তরুণের মাধ্যমে তিনি প্রথম জেএমবির দাওয়াতি কাজে অংশ নেন। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনের মাধ্যমেই তিনি জেএমবির শীর্ষ নেতাদের কাছাকাছি চলে আসেন। সালাউদ্দিনের মাধ্যমে তিনি হবিগঞ্জের লাখাই দারুল হুদা মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মোয়াজ নামে এক জেএমবি সদস্যের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে বিপ্লব ও বর্তমানে কারাবন্দী মাওলানা সাইদুর রহমানের সঙ্গে ময়মনসিংহের চড়পাড়ায় একাধিকবার বৈঠক করেন। জেএমবির আমীর মাওলানা সাইদুর গ্রেফতার হওয়ার পর মূলত সংগঠনটি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটি অংশের নেতৃত্ব নেয় সোহেল মাহফুজ। অপর অংশটির দায়িত্ব নেয় এই ফারুক। ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে বেরিয়ে আসার পর নিজের অনুসারীদের নিয়ে গোপনে সাংগঠনিক কাজকর্ম করতে থাকেন। সোহেল মাহফুজের অনুসারীরা দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন এবং ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করেন। কিন্তু ফারুক ও তার অনুসারীরা তেহরিক-ই-তালিবানকে (টিটিপি) অনুসরণ করে সশস্ত্র যুদ্ধ করতে চায়। ত্রিশালে তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দেয়ার পর ফারুকের উপস্থিতিতে জামালপুরে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে ফারুককে জেএমবি’র আমীর ঘোষণা করা হয়।