চট্টগ্রামে নতুন পুকুর খনন প্রকল্প খাস জমি সংকটে বাধাগ্রস্ত বাস্তবায়ন

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে জায়গার অভাবে সরকারিভাবে ১০টি পুকুর খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে মাত্র ৩টি পুকুর খননের জায়গা পাওয়া গেছে। কয়েকটি উপজেলা প্রশাসন খাস জায়গা নেই বলে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিটি পুকুর খননে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। খাস জায়গা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে পুকুর খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর বাইরে  জেলা পরিষদের মালিকানাধীন আরো ৪টি পুকুর পুনঃসংস্কার করা হচ্ছে। এসব পুকুরের পানি সোলার সাপোর্টের পাম্পের মাধ্যমে পরিশোধন করে জনসাধারণের মধ্যে সরবরাহ দেওয়া হবে।

বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানির সংকট বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় নলকূপ থেকে বিশুদ্ধ পানি মিলছে না। তাই সরকারিভাবে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করার সরকারিভাবে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পৃথক দুটি প্রক্রিয়ায়  সরকারি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একটি হচ্ছে পুকুর খনন ও অপরটি পুকুর পুনঃসংস্কার। পুনঃসংস্কারের  আওতায় পটিয়া,বাঁশখালী, বোয়ালখালী ও মিরসরাই উপজেলায় ৪টি পুকুর পুনঃসংস্কারের কাজ চলছে। এসব পুকুর জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। ইতোমধ্যে এসব পুকুরের পুনঃসংস্কার কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

নতুন ভাবে ১০টি পুকুর খনন প্রকল্পের জায়গা সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনামতে  খাস জমিতে পুকুর খনন করতে হবে। যদি খাস জমি পাওয়া না যায় তাহলে জমি ক্রয় করে নতুন পুকুর খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জায়গা সংগ্রহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। জায়গা সংগ্রহ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। ইতোমধ্যে ৩টি নতুন পুকুর খননের জায়গা সংগ্রহ করা গেছে। এগুলো হচ্ছে রাউজান,সাতকানিয়া ও বাঁশখালী।  জানা যায়, প্রতিটি পুকুরের জন্য দশমিক ৫ একর থেকে ১ একর জায়গার প্রয়োজন হবে। এতে প্রতিটি পুকুরের জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুকুরগুলো খননের পর ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারাই পরবর্তীকালে পুকুরগুলো পরিচালনা করবেন। জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন রায় ইত্তেফাককে বলেন, জায়গা সংগ্রহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ১৫টি উপজেলার মধ্যে  ৬টি উপজেলার ইউএনও নীতিমালার আলোকে সরকারি খাস জমি নেই বলে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ৩টি উপজেলা প্রশাসন জায়গা প্রদানের সম্মতি দিয়েছে। বাকি ৬টি উপজেলা প্রশাসন থেকে জায়গা নিয়ে এখনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।’