অস্থির শেয়ারবাজার
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৪, ২৩:১০
কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ২৪ কার্যদিবসই দর পতন হয়েছে। এসময়ে ডিএসই’র সূচক কমেছে ২৮৪ পয়েন্ট। আবার আগের ৩০ কার্যদিবসের ২৩ কার্যদিবসই সূচক বেড়েছে। তখন ডিএসই’র সূচক বাড়ে ৬৪৫ পয়েন্ট। এক লাফে এভাবে সূচক প্রায় সাড়ে ৬শ’ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়া কিংবা একটানা দর পতনের ফলে শেয়ার বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরেনি। হঠাত্ করে দর বেড়ে যাওয়া বা দর কমে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না তারা। ফলে বাজার নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দাম বাড়ার মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না থাকার পরও অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম গত জানুয়ারি মাসে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাত্ করে দর বৃদ্ধির ফলে বাজারের পিই রেশিও (দাম-আয় অনুপাত) অনেক বেড়ে যায়। দাম বৃদ্ধির পর স্বাভাবিক নিয়মেই দর পতন শুরু হয়। কিন্তু দর পতনও চলছে একটানা। মাঝে দুয়েকদিন ক্ষান্ত দিলেও দফায় দফায় সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীরা আস্থার সঙ্কটে পড়েছেন।
শেয়ার বাজারে সূচকের একটানা বৃদ্ধি ও একটানা পতনের এই ধারা স্বাভাবিক বাজারের চরিত্র নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সূচকের ওঠানামা হওয়া উচিত ধীরে। তাছাড়া সূচকের ওঠানামায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকা প্রয়োজন। অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে তখন সূচক বেড়েছিল দফায় দফায়। অক্টোবর থেকে সূচক বৃদ্ধির ধারা শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএসই’র সূচক প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক হাজার পয়েন্ট বেড়েছে। এরপর সূচক কমতে শুরু করে। এখন দফায় দফায় চলছে দর পতন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, নির্বাচনের সময় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে সূচক বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশে কোনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এ কাজে অংশ নিয়েছে। কিন্তু যখন তারা শেয়ার বিক্রি শুরু করে তখন সূচকও কমতে শুরু করে। তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে সূচক বাড়াতে গিয়ে এখন বাজারে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এসব বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের বাজারে বছরে ১০ শতাংশ করে সূচক বাড়তে পারে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক হাজার পয়েন্ট বা ২৫ শতাংশ সূচক বেড়ে যাওয়া সঠিক না। বরং ধীরে ধীরে বাজারে সূচকের ওঠানামা হওয়া উচিত।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এ ব্যাপারে বলেন, শেয়ার বাজারে সূচকের ওঠানামা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এটা হওয়া উচিত দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে।
গত এক মাস ধরে বাজারে যে দর পতন চলছে এর কারণ জানতে চাইলে ডিএসই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হঠাত্ করে দর বৃদ্ধির পর দর পতনের চাপে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় আরো বেশি দর পতনের মুখে পড়েছে শেয়ার বাজার। তাছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনার নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে শেয়ার বাজারে।
এদিকে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ পুঁজি বাজার থেকে প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর সম্প্রতি সমন্বিত হিসেবে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা পুনঃনির্ধারণের কারণে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমছে। প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সমন্বিত (কনসোলিডেটেড) হিসেবে পুঁজি বাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।