গ্রীষ্মে পানি সংকটে পড়বে খুলনার ২৫ লাখ মানুষ!
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৪, ২৩:১০
শুরু হচ্ছে গ্রীষ্ম মৌসুম। এ মৌসুমে খুলনা মহানগরীসহ জেলার দিঘলিয়া, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগবে। খোদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার কর্মকর্তারা এমন আশঙ্কা করছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টি, নদীর নাব্যতা হ্রাস, উত্সমুখ বাধাগ্রস্ত হওয়া, ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের তুলনায় তা জমা না হওয়া এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াই এর মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন তারা। স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও আদমশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মহানগরসহ জেলার ৫ উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে শুধু মহানগরীতেই বসবাস করেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা পূরণে নির্ভর করতে হয় একমাত্র গভীর নলকূপের ওপর। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি পাওয়া যায় না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দিঘলিয়া, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২০১৩ সালে পানির স্তর নিচে নামে গড়ে ২১ ফুট। ২০১২ সালেও ওই গড় অপরিবর্তিত ছিল। ২০১১ সালে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছিল প্রায় ২৬ ফুট। সূত্র মতে, গত বছর বটিয়াঘাটা উপজেলায় পানির স্তর নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯ ফুট। এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৭ দশমিক ৫ ফুট, ফুলতলা উপজেলায় ১৯ দশমিক ৮ ফুট, রূপসা উপজেলায় ১৯ ফুট ও দিঘলিয়া উপজেলায় ২০ দশমিক ৯ ফুট। ফলে এসব এলাকার নলকূপ দিয়ে পানি ওঠানো সম্ভব হয়নি। এই ৫ উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠীকে পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে অধিকাংশ জায়গায় পুকুরের পানি পান করার অযোগ্য। পুকুরের পানি শোধনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও এসব উপজেলায় নেই। ৫ উপজেলায় পানি শোধনের জন্য সরকার পিএসএফ ব্যবস্থা করেছে মাত্র ১৮টি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানি সংকটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে খুলনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গ্রামীণ পানি সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা স. ম এনায়েত কবীর জানান, প্রকৃতি ও মানব সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে যেসব এলাকার মানুষ ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল, তারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পাচ্ছে। পানির স্তর নিচে নামার একই ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছরও পানি সমস্যায় ভুগবে মানুষ।
তবে পানির স্তর নিচে নামলেও খুলনা মহানগরীর মানুষদের জন্য সেটা সমস্যা হবে না বলে দাবি করেছেন খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তারা। ওয়াসার সহকারি প্রকৌশলী মারুফ হোসেন বলেন, পানির স্তর নিচে না নামলে পানির সমস্যা হবে না। এবছর ১৩টি অতিরিক্ত উত্পাদক নলকূপের সাহায্যে পানি ওঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। গরমের সময় নগরীতে পানি প্রায় ৩৩ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে সেখান থেকে পানি ওঠাতে সমস্যা হয়। পানি সংকট প্রসঙ্গে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি দিয়ে কখনো পানি সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। নগরীর পানি সংকট দূর করার জন্য পাশের ময়ূর নদীকে ব্যবহার করতে হবে। এর পানি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে শোধন করলে নগরবাসীর পানি সমস্যা লাঘব হবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে পুকুরের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।